গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া পৌরসভা মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে এক হাজার ৬২৪ জন কৃষকের মাঝে আধুনিক কৃষক কার্ড এবং কৃষি উপকরণ সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতে এবং কৃষকদের সরাসরি সরকারি সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সারা দেশে একযোগে এই কৃষক কার্ড হস্তান্তর কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় দেশের ৫৬ জেলার ৭৭টি উপজেলা এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সঙ্গে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিল। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, চলতি বছর পর্যায়ক্রমে দেশের ৪৩ লাখ কৃষককে এই কার্ডের আওতায় আনার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। প্রথম ধাপে ১ লাখ ১০ হাজার ১৬৫ জন কৃষককে এই সুবিধার আওতায় আনা হচ্ছে, যার মধ্যে উদ্বোধনী দিনে ১ লাখ ৪৭ জন কৃষক কৃষি উপকরণ কেনার জন্য আর্থিক সহায়তা হিসেবে আড়াই হাজার টাকা করে পেয়েছেন।
ভাণ্ডারিয়া পৌরসভা মিলনায়তনে আয়োজিত স্থানীয় এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী এবং পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আহম্মদ সোহেল মনজুর। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসিবুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর খামারবাড়ির উপপরিচালক সৌমিত্র সরকার, ভাণ্ডারিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলামসহ স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং ভাণ্ডারিয়া উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা কৃষকেরা। উদ্বোধনী পর্বে ভাণ্ডারিয়া উপজেলার নদমূলা-শিয়ালকাঠি ইউনিয়নের এক হাজার ৬২৪ জন কৃষকের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে কৃষক কার্ড ও সহায়তা তুলে দেওয়া হয়।
কৃষি বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই কৃষক কার্ডের মাধ্যমে এখন থেকে কৃষকরা অত্যন্ত সহজে সরকারি সহায়তা, সার ও বীজসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণ, প্রণোদনা, সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, আধুনিক কৃষিযন্ত্র এবং বিশেষ প্রশিক্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলো গ্রহণ করতে পারবেন। সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই কার্ডের সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে কৃষকদের জন্য অন্তত ১০ ধরনের কৃষিসেবা নিশ্চিত করা হবে। এর ফলে প্রকৃত কৃষকদের নিখুঁতভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হবে এবং সব ধরনের সরকারি সহায়তা ও ভর্তুকি কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সরাসরি কৃষকের কাছে স্বচ্ছতার সঙ্গে পৌঁছে দেওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।