মাত্র ৮০০ টাকার চারা দিয়ে টাঙ্গাইলে বিদেশি ফল আনারকলি চাষ করে স্বাবলম্বীর স্বপ্ন দেখছেন তরুণ উদ্যোক্তা সোহেল আকন্দ

মাত্র ৮০০ টাকা পুঁজির প্রাথমিক বিনিয়োগে বিদেশি ফল ‘প্যাশন ফ্রুট’ (যা স্থানীয়ভাবে ‘আনারকলি’ নামে পরিচিত) চাষ করে এক ব্যতিক্রমী সাফল্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার বামনহাটা গ্রামের তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা সোহেল আকন্দ। গত এপ্রিল মাসে কক্সবাজারের চকরিয়া থেকে কয়েকটি গাছের চারা সংগ্রহ করে বাড়ির পরিত্যক্ত আঙিনায় পরীক্ষামূলক এই চাষাবাদ শুরু করেছিলেন তিনি, যা মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে তাকে এনে দিয়েছে অভাবনীয় সাফল্য। বর্তমানে তার বাগানের প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় ঝুলে রয়েছে রসালো ও সুস্বাদু এই ফল।

পৌর শহরের বামনহাটা গ্রামের মৃত আবুল কালাম আকন্দের ছেলে সোহেল আকন্দের এই কৃষি উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার নেপথ্যে রয়েছে এক সংগ্রামের গল্প। এর আগে চাকরির পেছনে ছুটে এবং প্রবাসে যাওয়ার চেষ্টা করে দালালের খপ্পরে পড়ে আর্থিকভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন তিনি। সেই হতাশা কাটিয়ে নিজের মেধা ও পরিশ্রমকে কাজে লাগিয়ে নতুন কিছু করার তাগিদ থেকে গত ছয় মাস আগে তিনি এই উদ্যোগ নেন। প্রথম দিকে গাছ লাগানোর পর ফুল ঝরে পড়ার মতো নানা জটিলতায় পড়তে হলেও সঠিক পরিচর্যা ও নিয়মিত যত্নের মাধ্যমে তিনি সেই সংকট কাটিয়ে ওঠেন। বর্তমানে গত জুলাই মাস থেকে গাছে ফল ধরা শুরু হওয়ার পর থেকে তার এই উদ্যোগ সফলতার মুখ দেখেছে।

বর্তমানে উৎপাদিত এই ফল আকারভেদে প্রতি পিস ৩০ থেকে ৬০ টাকা এবং পাইকারি ও খুচরায় প্রতি কেজি ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের পাশাপাশি স্থানীয় ক্রেতারাও সরাসরি বাড়িতে এসে এই সুস্বাদু ফল কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। আনারকলির পাশাপাশি বাড়ির উঠানে একটি মিনি নার্সারিও গড়ে তুলেছেন তিনি, যেখানে বিভিন্ন ফলজ ও বনজ বৃক্ষ রয়েছে। অল্প পরিসরে শুরু করা এই চাষাবাদকে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার, যা এলাকার যুবসমাজকে নতুন করে অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল লতিফ ও আখতার হোসেন জানান, টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে এর আগে এই বিদেশি ফলের চাষ বা এর উপস্থিতি কেউ দেখেনি। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের এই ফল স্থানীয় বাজারে নতুন হওয়ায় এর চাহিদাও বেশ ভালো। সোহেলের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ বেকারত্ব দূর করার পাশাপাশি এলাকার অন্য যুবকদের জন্যও একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। তারা আশা প্রকাশ করেন যে, এই ফলের চাষ কেবল বাণিজ্যিকভাবে সফলই হবে না, বরং চারা উৎপাদনের মাধ্যমে এর পরিধি পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়বে।

এ বিষয়ে ভূঞাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মোখলেছুর রহমান জানান, বামনহাটা গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা সোহেল আকন্দের নিজ বাড়ির উঠানে প্রায় অর্ধশতক জমিতে গড়ে তোলা প্যাশন ফ্রুট বা আনারকলি বাগান তারা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে তাকে সব ধরনের কারিগরি সহায়তা এবং এই বাগান ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার জোরালো আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

০%
০%
০%
০%