নীলফামারীতে মাদক মামলার এক আসামিকে আদালতে নেওয়ার পথে তার স্বজন ও স্থানীয়দের নিয়ে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের মূলফটকে হট্টগোল এবং পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরের দিকে নীলফামারী পুলিশ সুপার কার্যালয়ের প্রবেশদ্বারে এই বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়, যা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এর আগে শুক্রবার গভীর রাতে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের একটি বিশেষ দল মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। সৈয়দপুর এলাকা থেকে ডিমলা উপজেলার খগা খড়িবাড়ী পূর্ব দোহলপাড়া গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে সুজন ইসলামকে (৩৪) আটক করা হয়। শনিবার দুপুরের দিকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি নেয় পুলিশ। ঠিক সেই মুহূর্তে আসামির স্বজন ও স্থানীয় এলাকার একদল লোক পুলিশ সুপার কার্যালয়ের মূলফটকে সমবেত হয়ে সুজনের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে তীব্র হট্টগোল শুরু করেন এবং পুলিশের দায়িত্ব পালনে সরাসরি বাধা দেন।
পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে গেলে অতিরিক্ত পুলিশ ও ডিবির সদস্যরা অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের ছত্রভঙ্গ করে ঘটনাস্থল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ২০ জনকে আটক করা হয়। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আটককৃতদের বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করেনি পুলিশ।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান জানান, ডিবি পুলিশের হেফাজতে থাকা ডিমলা এলাকার এক মাদক মামলার আসামিকে আদালতে স্থানান্তরের সময় কিছু লোক অননুমোদিতভাবে জড়ো হয়ে হট্টগোল সৃষ্টি করেন এবং সরকারি কাজে বাধা দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে ২০ জনকে আটক করেছে। বর্তমানে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
পুলিশের রেকর্ডপত্র অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত সুজন ইসলামের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নীলফামারী সদর ও রাজধানী ঢাকার দারুস সালাম থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ২০১৮ ও ২০২১ সালে নীলফামারী সদর থানায় এবং ২০২১ সালে ঢাকার দারুস সালাম থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। যার মধ্যে একটি মামলার তদন্ত শেষে ইতোমধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়েছে।