রূপগঞ্জে শীতলক্ষ্যার বুকে ১৫ বছর পর ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ উৎসবে লাখো মানুষের ঢল

দীর্ঘ ১৫ বছর পর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের কাঞ্চনে শীতলক্ষ্যা নদীতে উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা। শনিবার (৩ অক্টোবর) দিনব্যাপী আয়োজিত এই প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে শীতলক্ষ্যার দুই পাড়ে লাখো মানুষের ঢ নামে, যা এক বিশাল মিলনমেলায় রূপ নেয়।

ঢোলের বাড়ি আর কাঁসার তালে তালে শীতলক্ষ্যার বুকে আছড়ে পড়া বইঠার শব্দ এবং নদীর দুই কূলে হাজারো মানুষের উল্লাস ও করতালি দীর্ঘ দেড় যুগ পর কাঞ্চন অঞ্চলে ফিরিয়ে আনে চিরচেনা সেই আবহ। কাঞ্চন পৌর বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে সব বয়সি নারী, পুরুষ ও শিশু অংশ নেন। অনেকেই নৌকা, ইঞ্জিনচালিত ট্রলার কিংবা কাঞ্চন ব্রিজের ওপর দাঁড়িয়ে গান বাজিয়ে উৎসব উপভোগ করেন এবং নিজেদের পছন্দের নৌকার বিজয়ের জন্য স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠেন।

এবারের নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় স্থানীয়সহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মোট ১৭টি নৌকা অংশ নেয়। প্রতিযোগিতাকে সুশৃঙ্খল করতে খেলাটি দুটি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছিল—যার মধ্যে একটি গ্রুপে ৮টি ছিপ নৌকা এবং অন্য গ্রুপে ৯টি কোসা নৌকা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। তীব্র ও আকর্ষণীয় প্রতিযোগিতার পর ছিপ নৌকা বিভাগে ‘মামা ভাগিনা-কেরাবো’ প্রথম স্থান অর্জন করে, দ্বিতীয় হয় ‘শেখ খোকন-দাসেরকান্দি’ এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করে ‘এফএনএফ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি-কাঞ্চন’। অন্যদিকে, কোসা নৌকা প্রতিযোগিতায় ‘সোহেল রানা-কলাতলি’ বিজয়ী হয়, দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে ‘সাথী-কালাদী’ এবং তৃতীয় হয় ‘রাসেল এক্সপ্রেস-ছাত্রদল’।

প্রতিযোগিতা শেষে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের মাঝে আকর্ষণীয় পুরস্কার বিতরণ করেন নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপু। পুরস্কারের মধ্যে বিজয়ী ও রানার্সআপদের জন্য মোটরসাইকেল, ফ্রিজ ও টেলিভিশন প্রদান করা হয়।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহফুজুর রহমান হুমায়ুন এবং খেলাটির প্রধান আয়োজক কাঞ্চন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মফিকুল ইসলাম খানসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। দীর্ঘদিন পর এমন একটি প্রাণবন্ত আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় আয়োজক কমিটিকে সাধুবাদ জানিয়েছেন দর্শনার্থীরা এবং আগামীতেও গ্রামবাংলার এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে এমন আয়োজন অব্যাহত রাখার জোরালো দাবি জানিয়েছেন তারা।

০%
০%
০%
০%