বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির বহুমুখী প্রতিভাবান অভিনেতা অম্বরীশ ভট্টাচার্য দীর্ঘদিনের অভিনয় জীবনে বহু স্মরণীয় চরিত্র উপহার দিলেও তাঁর মনে দীর্ঘ প্রায় তিন দশক ধরে একটি সুপ্ত বাসনা অপূর্ণই থেকে গিয়েছিল। মঙ্গলবার আয়োজিত এক বিশেষ জমকালো আয়োজনে পরিচালক শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে পাশে নিয়ে সেই স্বপ্ন পূরণের আনন্দ অনুরাগীদের সঙ্গে ভাগ করে নেন এই গুণী অভিনেতা। উইন্ডোজ প্রোডাকশন হাউসের ২৫তম বছর পূর্তি উপলক্ষে নির্মিত বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা 'বহুরূপী দ্য গোল্ডেন ডাকু'-এর মাধ্যমে অবশেষে সেই বহুকাঙ্ক্ষিত ইচ্ছে পূর্ণ হলো তাঁর।
স্মৃতিচারণা করে অম্বরীশ জানান, পড়াশোনা শেষ করে যখন তিনি সংগীতাঙ্গন ও অভিনয় জগতে নিজের পায়ের নিচে মাটি খোঁজার চেষ্টা করছেন, সেই ১৯৯৫ সালে একটি টেলিভিশন ধারাবাহিকে শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অভিনয় দেখে তিনি সম্পূর্ণ বিমোহিত হয়েছিলেন। সেদিন থেকেই শিবপ্রসাদের সঙ্গে একই ফ্রেমে স্ক্রিন শেয়ার করার এক তীব্র বাসনা সুপ্ত ছিল তাঁর মনে। দীর্ঘ পঁচানব্বই সাল থেকে লালিত সেই স্বপ্ন অবশেষে এই নতুন চলচ্চিত্রের হাত ধরে বাস্তবে রূপ নিল। সিনেমাটিতে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জাদুকরী চরিত্রে দেখা যাবে তাঁকে, যা তাঁর অভিনয় জীবনের মুকুটে এক নতুন পালক যোগ করেছে।
নন্দিত পরিচালক শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সৃষ্টি এই মহাপ্রকল্পে এবারও আকর্ষণীয় বিক্রম প্রামাণিক চরিত্রে পর্দায় হাজির হবেন পরিচালক নিজেই। তাঁর ঠিক বিপরীতে এক নতুন রূপ নিয়ে শক্তিশালী পুলিশ অফিসারের ভূমিকায় অনেকদিন পর কামব্যাক করছেন খ্যাতিমান অভিনেতা যিশু সেনগুপ্ত। এছাড়াও ছবিতে ঝিমলি নামক একটি সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী ও চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে দর্শকদের মন জয় করতে আসছেন কৌশানি মুখোপাধ্যায়, আর সোহিনী সরকারকেও দেখা যাবে এক চমকপ্রদ অবতারে।
উইন্ডোজ প্রোডাকশন হাউসের এই বিশেষ নিবেদনে তারকা সমারোহের কমতি নেই। প্রধান শিল্পীদের পাশাপাশি এই মহাতারকা খচিত চলচ্চিত্রে আরও অভিনয় করেছেন রজতাভ দত্ত, চন্দন সেন, অনুজয় চট্টোপাধ্যায়, শান্তিলাল মুখোপাধ্যায় এবং অনিমেষ গরুইয়ের মতো পোড়খাওয়া শিল্পীরা। দর্শকদের মন জয় করতে ছবির গল্প ও নির্মাণশৈলীতে রাখা হয়েছে নানাবিধ চমক। বারাসাত, টাকি, বর্ধমান, বিষ্ণুপুর, মালদা এবং হাসনাবাদসহ পশ্চিমবঙ্গজুড়ে মোট ছিয়ানব্বইটি নয়নাভিরাম লোকেশনে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে এই চলচ্চিত্রের চিত্রগ্রহণ।