প্রতারক রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর

অবৈধ পন্থায় প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে সতর্ক করে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেছেন, এই জালিয়াতি বন্ধ না করলে তাদের কপালে শনির দশা নেমে আসবে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত অনলাইন কমপ্লেইন্ট ম্যানেজমেন্ট মডিউলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ হুশিয়ারি দেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ডিবি পুলিশসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা প্রতারকদের কঠোর নজরদারিতে রেখেছে, তাই পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
প্রতিমন্ত্রী অভিযোগ করেন, মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়াই অভিবাসন আইন লঙ্ঘন করে বিভিন্ন এজেন্সি মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর নামে চটকদার বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের কন্টেন্ট ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। বিগত দিনের বিতর্কিত প্রক্রিয়া পরিহার করে স্বচ্ছ এবং স্বল্প খরচে প্রবাসী বাংলাদেশিদের যাতায়াত নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ঋণ বিতরণে ঘুষের অভিযোগের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দরিদ্র মানুষের জন্য নির্ধারিত ঋণের বিপরীতে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা দাবি করার মতো অনৈতিক কর্মকাণ্ড ঢাকা ও ঢাকার বাইরে অহরহ ঘটছে। এমন দুর্নীতি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। অতীতে মালয়েশিয়া সিন্ডিকেটসহ শ্রমবাজারে শোষণের দায়ে ৪৯টি এবং রাশিয়াগামী কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে অনিয়মের জন্য বেশ কিছু রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।
দেশে বর্তমানে প্রায় ৩ হাজার রিক্রুটিং লাইসেন্স থাকার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নুরুল হক বলেন, এত বিপুল সংখ্যক লাইসেন্সের প্রয়োজন আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অনেক এজেন্সি শর্তানুযায়ী নির্দিষ্ট সংখ্যক কর্মী পাঠাতে ব্যর্থ হলেও নামমাত্র অজুহাতে লাইসেন্স নবায়ন করে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া সিঙ্গাপুরে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে সিন্ডিকেট করে ১২ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার নেপথ্যে ছয়টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের যোগসাজশ রয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. শাকিরুল ইসলাম খান, মন্ত্রণালয়ের সচিব মোখতার আহমেদ এবং রামরুর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ার ড. তাসনিম সিদ্দিকী। প্রতিমন্ত্রী পুনরুল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হলো শ্রমবাজারকে শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসা এবং গরিবের রক্ত চুষে যারা শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
