হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ বিপজ্জনক নজির স্থাপন করছে বলে মন্তব্য মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণকে একটি ‘বিপজ্জনক নজির’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিও। ম্যানিলায় আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর এক সম্মেলনে বুধবার তিনি মন্তব্য করেন, কোনো রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক নৌপথের ওপর একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে টোল আদায় করবে এবং তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে জাহাজ ধ্বংস করবে—এমনটা মেনে নেওয়া যায় না। রুবির মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিশ্বজুড়ে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতার মৌলিক নীতিকে চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত নিরসনে ওয়াশিংটন আলোচনার টেবিলে বসতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে তার অভিযোগ, তেহরান আলোচনার বিষয়ে মোটেও আন্তরিক নয়। তিনি স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি সমঝোতায় আগ্রহী না হয়, তবে নিজেদের এবং মিত্রদের স্বার্থ রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় যেকোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পিছপা হবে না। এদিকে, দেশটিতে টানা ১১তম রাতের মতো মার্কিন বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে, যার ফলে বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

ইরানে সাম্প্রতিক এই মার্কিন হামলায় ৫০ জন নিহত হয়েছেন এবং আহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০০ জনে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। যুদ্ধের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক রুটগুলোতে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

এরই মধ্যে মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার নতুন হুমকি দিয়েছেন। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া সামরিক কমান্ড কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জানিয়েছে, এ ধরনের কোনো হামলা পরিচালিত হলে তা আঞ্চলিক যুদ্ধের পরিধিকে আরও বাড়িয়ে দেবে। তেহরান পাল্টা হুমকি দিয়ে বলেছে, আগ্রাসন চালানো হলে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সকল স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।

বিজ্ঞাপন

আসিয়ান সম্মেলনে যোগ দিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, একবিংশ শতাব্দীর বিশ্বরাজনীতির ভাগ্য নির্ধারিত হবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের ঘটনাপ্রবাহের ওপর ভিত্তি করেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। একদিকে আলোচনার প্রস্তাব এবং অন্যদিকে সামরিক উত্তেজনার পারদ—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির চরম অনিশ্চয়তা এখন বিশ্ব নেতৃত্বের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%