সাটুরিয়ায় খাল পুনঃখনন প্রকল্পে সরকারি কোষাগারে ফেরত এক কোটি ২২ লাখ টাকা

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার গাজী খালী নদীর উৎসমুখ থেকে বালিয়াটি খলিলাবাদ পর্যন্ত ৬ দশমিক ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ চন্দ্র খালী খাল পুনঃখনন প্রকল্পে সততা ও স্বচ্ছতার নজির স্থাপন করেছে স্থানীয় প্রশাসন। প্রায় ২ কোটি ৮৩ লাখ ২৭ হাজার ৬২৩ টাকা বরাদ্দকৃত এই প্রকল্পে নির্ধারিত গুণগত মান বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন করার পরও ১ কোটি ২২ লাখ ২ হাজার ১৫৬ টাকা সাশ্রয় হয়েছে। সরকারি বিধি অনুসরণ করে সাশ্রয়কৃত এই বিপুল পরিমাণ অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের কাজ শতভাগ সম্পন্ন করার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জলাধার সংরক্ষণের লক্ষ্যে খালের দুই পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে। বৃষ্টির কারণে খালের পাড় ভেঙে যাওয়ার মতো প্রতিকূল পরিস্থিতি সৃষ্টি হলেও তা মেরামত করে কাজের মান নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার এই উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) মানিকগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, সরকারি প্রকল্পের অব্যয়িত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত পাঠানো সুশাসনের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এর মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও নিষ্ঠার প্রতিফলন ঘটেছে, যা ভবিষ্যতে উন্নয়নমূলক কাজের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হবে।
সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কাজী অনিক ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন ধরে দখল ও ভরাটের কবলে পড়ে ঐতিহ্যবাহী চন্দ্র খালী খালটি প্রায় অকেজো হয়ে পড়েছিল। খালের বিভিন্ন স্থানে প্রস্থ ভিন্ন হওয়ায় এবং প্রকল্পের সুপরিকল্পিত বাস্তবায়নের ফলে প্রাক্কলিত ব্যয়ের তুলনায় কম খরচে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা ও স্বচ্ছতা বজায় রেখেই সাশ্রয়কৃত অর্থ সরকারি তহবিলে জমা দেওয়া হয়েছে।
