লবণযুক্ত চামড়া সরবরাহ করলে নির্ধারিত দাম মিলবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

কোরবানির পশুর চামড়ার গুণগত মান নিশ্চিত করতে এবং সরকার নির্ধারিত ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে চামড়ায় দ্রুত লবণ প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সাভারের আমিনবাজার এলাকায় চামড়ার আড়ত পরিদর্শনে এসে তিনি এ আহ্বান জানান। মন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, সরকার নির্ধারিত মূল্য শুধুমাত্র লবণজাত চামড়ার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, তাই পশুর শরীর থেকে চামড়া ছাড়ানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লবণ প্রয়োগ করা জরুরি।
মূল্য নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় সব অংশীজনদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে উল্লেখ করে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক প্রতিনিধি ও নেতাদের উপস্থিতিতেই এই দর ঘোষণা করা হয়েছে। বর্তমান আবহাওয়ার অনুকূল পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে চামড়া সংরক্ষণের সুযোগ এখনো রয়েছে বলে তিনি জানান। লজিস্টিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও সারাদেশের চামড়া সংগ্রহ ও ট্যানারি পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এবার বেশি চামড়া সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
চামড়া শিল্পকে দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে এই খাতের রপ্তানি আয় এক বিলিয়ন ডলার হলেও, সঠিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে তা ১০ থেকে ১২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব। সাভারের কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার বা সিইটিপি সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন এবং রুগ্ন ট্যানারিগুলোকে সচল করার মাধ্যমে এই খাতকে বিকশিত করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। ভবিষ্যতে চামড়া শিল্পে স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণের ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
চামড়া পাচারের আশঙ্কা নাকচ করে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, চামড়া পাচার রোধে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সার্বক্ষণিক মনিটরিং সেল গঠন করেছে। জেলা প্রশাসক এবং বিসিক কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত একাধিক টিম ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জেলা সদরে কাজ করছে। মূলত চামড়া সংরক্ষণ এবং সময়মতো তা রপ্তানির উপযোগী করে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার চামড়া শিল্পে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
