পশুর আক্রমণে হাসপাতালে ২০১ জন

পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দ উৎসবের দিনে রাজধানীতে কোরবানির পশু সামলাতে গিয়ে এবং বিভিন্ন সড়ক দুর্ঘটনায় আহতের সংখ্যা বাড়ছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কোরবানির পশু জবাই ও নিয়ন্ত্রণে গিয়ে আঘাতপ্রাপ্ত অন্তত ৩৩ জন রোগী জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) চিকিৎসা নিয়েছেন। এর বাইরে একই সময়সীমার মধ্যে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাসহ অন্যান্য কারণে আসা রোগীদের নিয়ে মোট ১৬৮ জন হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন, যার মধ্যে ৮৯ জনকে গুরুতর অবস্থায় ভর্তি করা হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ ঘণ্টায় চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে বড় একটি অংশ কোরবানির সময় অসাবধানতার শিকার হয়েছেন। আহতদের মধ্যে আঙুল কাটা, রগ ছিঁড়ে যাওয়া, হাড় ভাঙা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর ক্ষতের মতো গুরুতর জখম রয়েছে। দুর্ঘটনার শিকার রোগীদের অনেকের অভিযোগ, উত্তেজিত পশুর নিয়ন্ত্রণ রাখতে গিয়ে এবং রশি ছিঁড়ে যাওয়ায় এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
উত্তরার তুরাগ থেকে আসা ভুক্তভোগী মামুন তালুকদার জানান, কোরবানির পশুটিকে বাঁধতে গিয়ে আকস্মিক আক্রমণের মুখে পড়েন তিনি। গরুটির গুঁতায় তার বাম হাতের দুটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। মিরপুর থেকে আসা তুষার মুফতি নামের অপর এক রোগী জানান, পশুর পায়ের রশি পিচ্ছিল হওয়ায় টান লাগার মুহূর্তে তার হাতের আঙুল ভেঙে যায়। অসতর্কভাবে রশি ব্যবহার এবং পশুর আচরণের পূর্বাভাস বুঝতে না পারায় এসব দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে ভুক্তভোগীরা জানান।
নিটোর-এর অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডাক্তার জীবনানন্দ হালদার জানান, গত বুধবার রাত ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টা পর্যন্ত মোট ১৬৮ জন রোগী জরুরি বিভাগে এসেছেন। এর মধ্যে ৮৯ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ডাক্তার হালদার আরও জানান, গত চব্বিশ ঘণ্টায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগীর সংখ্যাই বেশি ছিল, যার মধ্যে দুজন মারা গেছেন। পবিত্র ঈদুল আজহা কেন্দ্রিক এই আহতের সংখ্যা গত কয়েকবারের তুলনায় উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।
