রংপুর মেডিকেল হাসপাতালে অনিয়ম রোধে কঠোর হুঁশিয়ারি ত্রাণমন্ত্রীর, আনসারদের ওপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনসার সদস্যদের ওপর বলপ্রয়োগ ও ফৌজদারি অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। বৃহস্পতিবার পাঁচ দিনের সফরে রংপুরে পৌঁছে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা শেষে তিনি এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। মন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী আনসার সদস্যদের দায়িত্ব পালনে বাধা দিলে কিংবা বলপ্রয়োগ করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে।
হাসপাতালটির দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, উত্তরাঞ্চলের মানুষের প্রধান চিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই প্রতিষ্ঠানটি গত ১৭ বছর ধরে চরম অবহেলার শিকার হয়েছে। সেবার মানোন্নয়নে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর এবং চিকিৎসক ও জনবল সংকট দূর করতে বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তিনি আরও জানান, আগামী দুই মাসের মধ্যেই হাসপাতালের বিদ্যমান ১০টি আইসিইউ বেডের সঙ্গে আরও ১০টি যুক্ত করে মোট ২০টি বেড সচল করা হবে।
অপারেশন থিয়েটারে অ্যানেস্থেসিয়া বিশেষজ্ঞের সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মন্ত্রী জানান, সার্বক্ষণিক অস্ত্রোপচার নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সের অনিয়ম রুখতে কিলোমিটারভিত্তিক ভাড়া নির্ধারণ এবং চালানের মাধ্যমে বিল পরিশোধের নিয়ম বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পুরো হাসপাতালকে এক মাসের মধ্যে সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনা এবং রাতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন আলোকসজ্জার ব্যবস্থাও করা হবে।
দালালচক্র নির্মূলে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ এবং সব কর্মচারীর জন্য নির্ধারিত পোশাক ও পরিচয়পত্র ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। হাসপাতালের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা ফেরাতে সেখানে একটি পুলিশ কন্ট্রোল রুম স্থাপনসহ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে সিটি করপোরেশনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও নগরীর জিয়া খাল ও কেডিএ খাল পরিদর্শনকালে মন্ত্রী জানান, খাল খননসহ জলাবদ্ধতা নিরসনে অস্থায়ী সমাধানের পরিবর্তে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং আগামী শুকনো মৌসুমে জিয়া খাল পুনঃখননের কাজ শুরু করা হবে।
