চট্টগ্রামে ডিবি কার্যালয়ে আটকে প্রবাসীর স্ত্রীকে নির্যাতন ও কোটি টাকা আদায়ের অভিযোগ

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কার্যালয়ে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে রাতভর আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতন, শ্লীলতাহানি ও পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকির মাধ্যমে এক কোটি ১০ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ডিবিতে কর্মরত উপপরিদর্শক মহিউদ্দীন রাজু। ভুক্তভোগী লুৎফুর নেছার দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, কোনো ধরনের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছাড়াই তাকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে জিম্মি করা হয়।
মামলার বিবরণে জানা যায়, লুৎফুর নেছার স্বামী ফজলুল কাদের বাদশা সংযুক্ত আরব আমিরাতে ব্যবসা করেন। সেখানে ফটিকছড়ির বাসিন্দা নাজমুল হাসান ওরফে নাহিদের সঙ্গে ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব ছিল তার। ব্যবসায় লোকসানের জের ধরে নাজমুল পাওনা হিসেবে দুই কোটি ৫০ লাখ টাকা দাবি করেন। এই বিরোধের জেরে গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় নগরীর মুরাদপুর এলাকা থেকে ডিবি পরিচয়ে লুৎফুর নেছাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, তাকে নগরীর মনসুরাবাদে ডিবি উত্তর বিভাগের কার্যালয়ে ১৬ ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। এ সময় এসআই মহিউদ্দীন রাজু ও বরখাস্ত হওয়া সাবেক ডিবি কর্মকর্তা দীপঙ্করসহ অন্যরা তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেন। পরিবারের সদস্যদের মাদক মামলায় ফাঁসানো এবং প্রাণনাশের হুমকির মুখে লুৎফুর নেছা টাকা দিতে বাধ্য হন। পরে ডিবি কার্যালয়েই জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
উদ্বেগজনক এই ঘটনায় গত ১ জুন চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আদালতে পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী আবু বাকর সিদ্দিক জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেনের অডিও রেকর্ড ও মামলার নথিতে পর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে। লুৎফুর নেছা জানান, পুলিশের কাছে প্রতিকার না পেয়ে তিনি শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।
এই ঘটনাকে ক্ষমতার চরম অপব্যবহার ও উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক আখতার কবির চৌধুরী। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের এমন কর্মকাণ্ড রাষ্ট্রের আইনি কাঠামোর ওপর মানুষের আস্থা নষ্ট করে। বিষয়টি বর্তমান সরকারের নীতিগত অবস্থানের পরিপন্থী এবং এর কঠোর বিচার হওয়া প্রয়োজন বলে মত দেন তিনি।
এ বিষয়ে সিএমপি কমিশনার হাসান শওকত আলী জানিয়েছেন, আইনের বাইরে গিয়ে কাউকে তুলে আনা বা জিম্মি করার কোনো সুযোগ নেই। যেহেতু বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে এবং পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাই তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে, তার আলোকে এই তদন্ত কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলেও আশ্বস্ত করেছেন তিনি।
