ফ্রেঞ্চ ওপেন জয় করে ইতিহাস গড়লেন তরুণ তুর্কি মিরা আন্দ্রিভা

ফরাসি ওপেনের ক্লে কোর্টে নতুন রূপকথার জন্ম দিলেন মীরা আন্দ্রিভা। মাত্র ১৯ বছর বয়সে গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের অনন্য কীর্তি গড়ে টেনিস বিশ্বের নতুন বিস্ময় হয়ে উঠলেন অষ্টম বাছাই এই রুশ তরুণী। শনিবার শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে মীরা সরাসরি সেটে ৬-৩, ৬-২ ব্যবধানে হারিয়েছেন পোল্যান্ডের বাছাইপর্ব পেরিয়ে আসা মায়া চওয়ালিনস্কাকে। মোনিকা সেলেসের পর তিনিই সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে এই মর্যাদাপূর্ণ শিরোপা জয়ের গৌরব অর্জন করলেন।
ম্যাচের শুরু থেকেই কোর্ট ফিলিপ-শাতিয়ের দর্শকসারিতে পোলিশ সমর্থকদের সরব উপস্থিতি থাকলেও মীরা নিজের স্নায়ুর ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখেন। বাতাসের প্রতিকূলতাকে জয় করে ম্যাচ চলাকালীন দুর্দান্ত ব্যাকহ্যান্ড ক্রস-কোর্ট উইনারের মাধ্যমে প্রথম ম্যাচ পয়েন্ট নিশ্চিত করার পর মীরা উল্লাসে ফেটে পড়েন। র্যাকেট শূন্যে ছুড়ে দিয়ে ক্লে কোর্টে হাঁটু গেড়ে বসে তার এই জয় উদযাপন ছিল চোখে পড়ার মতো। অন্যদিকে, প্রথম কোয়ালিফায়ার হিসেবে রোলঁ গ্যারোর ট্রফি জয়ের স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে ১১৪ নম্বর র্যাঙ্কিংয়ের চওয়ালিনস্কার।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে মীরার আত্মবিশ্বাস এবং পরিপক্বতা ছিল দেখার মতো। তিনি নিজের লড়াইয়ের কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে জানান, নিজের ওপর আস্থা রাখা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও শতভাগ উজাড় করে খেলার সুফলই আজকের এই সাফল্য। ট্রফি প্রদানের সময় ১৯৯২ সালের রানার্স-আপ মেরি পিয়র্সের হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন মীরা। মীরার কোচ কনচিতা মার্তিনেজ নিজেও ২০০০ সালে ফরাসি ওপেনের ফাইনালে হেরেছিলেন, সেই আক্ষেপ যেন শিষ্যর হাত ধরেই ঘুচলো।
ম্যাচের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মীরা ২৫টি উইনার হাঁকিয়েছেন, যেখানে চওয়ালিনস্কার সংগ্রহ ছিল মাত্র ১০টি। আনফোর্সড এররের দিক থেকেও মীরা ছিলেন বেশি নিয়ন্ত্রিত; তার ২৬টি ভুলের বিপরীতে পোলিশ প্রতিপক্ষের ভুল ছিল ২৯টি। একসময়কার ১৫ বছর বয়সী বিস্ময়বালিকা হিসেবে টেনিস জগতে আগমন ঘটেছিল মীরার, আর আজ তিনি বিশ্বমঞ্চের অবিসংবাদিত চ্যাম্পিয়ন।
টুর্নামেন্টের অন্যান্য ইভেন্টে পুরুষ দ্বৈতে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রেখেছেন শীর্ষ বাছাই মার্সেল গ্রানোয়ার্স এবং হোরাসিও জেবালোস। তারা হ্যারি হেলিওভারা ও হেনরি প্যাটেন জুটিকে ৬-৪, ৬-২ ব্যবধানে পরাজিত করে শিরোপা ধরে রেখেছেন। এখন টেনিস বিশ্বের নজর রবিবারের পুরুষ এককের ফাইনালের দিকে, যেখানে আলেকজান্ডার জভেরেভ মুখোমুখি হবেন ফ্লাভিও কোবোলির। এই হাইভোল্টেজ ম্যাচের মাধ্যমেই পর্দা নামবে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম আলোচিত এবং ঘটনাবহুল গ্র্যান্ড স্লাম টুর্নামেন্টের।