টেস্ট ক্রিকেটে ১০ হাজার রানের স্বপ্ন নিয়ে দুরন্ত গতিতে ছুটছেন দক্ষিণ আফ্রিকার বিস্ময় বালক লুয়াঁদ্রে প্রেটোরিয়াস

গত দুই বছরে বিশ্ব ক্রিকেট আঙিনায় উল্কার গতিতে উত্থান হয়েছে লুয়ান-দ্রে প্রিটোরিয়াসের। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হওয়া থেকে শুরু করে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট ও টেস্ট অভিষেকের প্রথম ম্যাচেই সেঞ্চুরি—সব মিলিয়ে এক রোমাঞ্চকর পথচলা তাঁর। মাত্র ২০ বছর বয়সেই মেজর লিগ ক্রিকেটে বিধ্বংসী এক সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে জানান দিয়েছেন, তিনি আগামীর সুপারস্টার। ব্যাটিংয়ের প্রতি গভীর আবেগ, বক্সারের মতো কঠোর প্রস্তুতি এবং টেস্ট ক্রিকেটে ১০ হাজার রানের স্বপ্ন নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন এই তরুণ তুর্কি।
লুয়ানের মতে, আধুনিক ক্রীড়া বিশ্বে সাফল্যের জন্য মাঠের বাইরের সঠিক প্রস্তুতির কোনো বিকল্প নেই। তিনি মনে করেন, ‘সঠিক পরিকল্পনা মানেই বাজে পারফরম্যান্সের সম্ভাবনা কমিয়ে আনা।’ ক্যারিয়ারের এই দ্রুত উত্থানকে তিনি ইতিবাচকভাবেই দেখেন। তবে যখনই কোনো কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যান, তখনই নিজের অতীত সাফল্যের কথা স্মরণ করে মানসিক শক্তি সঞ্চয় করেন। ব্যাটিংকে তিনি নিছক কোনো পেশা হিসেবে দেখেন না, বরং এটি তাঁর কাছে পরম আনন্দের এক ক্ষেত্র। মাঠের বাইরে অলস সময় কাটানো বা বাজে আউট হয়ে ড্রেসিংরুমে বসে থাকাটা তাঁর জন্য চরম যন্ত্রণার।
প্রিটোরিয়াসের ব্যাটিংয়ের এক বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো প্রতিটি বলের আগে তাঁর বক্সারসূলভ শারীরিক ভঙ্গি। ব্যাট এক হাত থেকে অন্য হাতে অদলবদল করা এবং ছন্দময় নড়াচড়া তাঁকে খেলার প্রতি মনোযোগী থাকতে সাহায্য করে। কোচ রিচার্ড ডেস নেভেস ও সিদ্ধার্থ লাহিড়ীর পরামর্শ মেনে তিনি সবসময় নিজের শক্ত অবস্থানে দাঁড়িয়ে শট খেলার চেষ্টা করেন। প্রিটোরিয়াসের কথায়, ‘আমি দ্রুতই কোনো কিছুতে একঘেয়েমি অনুভব করি। তাই প্রতিটি বলের জন্য এই রুটিন আমাকে খেলার মধ্যে আটকে রাখে এবং মনোযোগ ধরে রাখতে সহায়তা করে।’
ভারতের আইপিএল এবং তরুণ ব্যাটার যশস্বী জয়সওয়ালের সাথে সখ্যতা তাঁর ব্যাটিংয়ে দারুণ প্রভাব ফেলেছে। জয়সওয়ালের সাথে ক্রিকেটীয় দর্শন ও মানসিকতা নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আলাপ করেছেন তিনি। ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটের কঠোর পরিশ্রম এবং ধ্রুব জুরেলের মতো ব্যাটারদের নেট প্র্যাকটিসের একাগ্রতা তাঁকে নতুন করে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। এছাড়া, কুইন্টন ডি ককের কাছ থেকে পাওয়া পরামর্শ ও সাহচর্য তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা প্রাপ্তি। পাকিস্তান সফরে ডি ককের হাত থেকে ক্যাপ গ্রহণ করাকে তিনি টেস্ট সেঞ্চুরির মতোই স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে মনে করেন।
প্রযুক্তি নির্ভর ক্রিকেটের এই যুগেও প্রিটোরিয়াস নিজের সহজাত প্রবৃত্তিকে বেশি গুরুত্ব দেন। তাঁর মতে, অতিরিক্ত বিশ্লেষণ অনেক সময় ব্যাটারকে দ্বিধান্বিত করে তোলে। তাই ম্যাচের আগে বোলারদের কৌশল ও পিচের ধরন সম্পর্কে সাধারণ ধারণা নিয়েই তিনি উইকেটে নামেন। টেস্ট ক্রিকেটকে ক্রিকেটের পরম পবিত্র ফরম্যাট মনে করেন এই তরুণ। তাঁর জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো সাদা পোশাকের ক্রিকেটে ১০ হাজার রান সংগ্রহ করা। মাঠের লড়াইয়ে আগ্রাসী মানসিকতা এবং নিজের ওপর অগাধ বিশ্বাসই লুয়ান-দ্রে প্রিটোরিয়াসকে বিশ্বমঞ্চে অনন্য করে তুলছে।