ছাত্র আন্দোলনের চাপে পদত্যাগ করলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান

প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে গড়ে ওঠা তীব্র ছাত্র আন্দোলনের মুখে নতিস্বীকার করে পদত্যাগ করলেন ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি চাকরির পরীক্ষায় অনিয়ম ও কারচুপি নিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ এবং দেশব্যাপী সৃষ্ট অস্থিরতার প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে। সরকারের অভ্যন্তরীণ ও গোয়েন্দা সূত্রগুলোর দাবি, পরিস্থিতির অবনতি রোধ এবং সম্ভাব্য সামাজিক সংঘাত এড়াতেই এই কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্ষমতাসীন সরকার।
সংশ্লিষ্ট মহলের তথ্যানুযায়ী, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিরোধী দলগুলো গত কয়েকদিন ধরে সংসদে যে অচলাবস্থা তৈরি করেছিল, তা সরকারের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে। বিরোধীদের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি ছিল, অভিযুক্ত মন্ত্রীর পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত সংসদীয় কার্যক্রম ও শিক্ষাসংক্রান্ত কোনো কঠোর বিল পাস হতে দেওয়া হবে না। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই শুক্রবার গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সরকারের কাছে সতর্কবার্তা পাঠায় যে, সপ্তাহান্তে আন্দোলন সহিংস রূপ ধারণ করতে পারে। মূলত রক্তপাত ও সামাজিক বিশৃঙ্খলা এড়াতে শেষ পর্যন্ত নৈতিক দায় স্বীকার করে ইস্তফার প্রস্তাব দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিজেপি নেতা স্বীকার করেছেন যে, এই বিক্ষোভ ২২টি রাজ্য ও ২টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এনডিএ জোটের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। দলের এক প্রবীণ সংসদ সদস্যের ভাষ্যমতে, সরকার সবসময় গলদ সংশোধন ও কঠোর ব্যবস্থায় বিশ্বাসী হলেও বিরোধীরা এই আন্দোলনকে সরকার উৎখাতের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছিল। ভারতর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ নিরসনের চেষ্টা সত্ত্বেও আন্দোলনকারীদের অনমনীয় মনোভাব ও বিরোধী শিবিরের ক্রমাগত উসকানি পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে গিয়েছিল।
এই পদত্যাগের নেপথ্যে কেবল রাজনৈতিক চাপ নয়, বরং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএস-এর পরামর্শও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে জানা গেছে। সংঘের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, যুবসমাজের এই আন্দোলনকে হালকাভাবে দেখার কোনো সুযোগ নেই বলে সরকারকে সতর্ক করা হয়েছিল। আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের সাম্প্রতিক মন্তব্য—যেখানে তিনি ‘অন্ধ আনুগত্যের যুগ’ পেরিয়ে যুবসমাজের ‘যুক্তি ও প্রমাণের’ দাবিকে সম্মান জানানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন—তা সরকারের সিদ্ধান্ত বদলাতে অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে।
আগামী দিনে একাধিক রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন থাকায় সরকার কোনোভাবেই যুবসমাজকে দূরে ঠেলে দেওয়ার ঝুঁকি নিতে চায়নি। অতীতে জরুরি অবস্থার বিরুদ্ধে জেপি নারায়ণের আন্দোলন কিংবা ‘ইন্ডিয়া এগেইনস্ট করাপশন’ আন্দোলনের রাজনৈতিক ফলাফলের কথা মাথায় রেখেই বিজেপি এই ‘কৌশলগত পিছু হটা’র পথ বেছে নিয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শিক্ষাক্ষেত্রে আমূল সংস্কারের দাবি এবং প্রজন্মের পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে চলার এই বার্তা ভারতের আগামী দিনের রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস