বেলঘরিয়া স্টেশনে উচ্ছেদ অভিযানে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ

উত্তর ২৪ পরগনার বেলঘরিয়া স্টেশনে রেল কর্তৃপক্ষের প্রস্তাবিত উচ্ছেদ অভিযান আপাতত ৩১ আগস্ট পর্যন্ত স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন কলকাতা হাই কোর্ট। শনিবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য এই অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ প্রদান করেন। আগামী ১৩ আগস্ট মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে, যেখানে উভয় পক্ষের বিস্তারিত যুক্তিতর্ক শোনার পর আদালত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
সম্প্রতি যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, স্টেশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রাজ্যের বিভিন্ন রেল স্টেশনে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদে নেমেছে রেল কর্তৃপক্ষ। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৪ জুলাই বেলঘরিয়া স্টেশনে উচ্ছেদের নোটিস জারি করা হয়। নোটিসে রেলের জমি দখল করে থাকা বাসিন্দাদের দ্রুত জায়গা খালি করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। অন্যথায় রেল আইন অনুযায়ী কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।
এই নোটিসের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন ক্ষতিগ্রস্তদের একাংশ। আবেদনকারীদের আইনজীবী শামীম আহমেদ আদালতে জানান, দীর্ঘ সময় ধরে ওই এলাকায় বহু মানুষ বসবাস ও ব্যবসা করছেন। পর্যাপ্ত সময় না দিয়েই উচ্ছেদের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা তাদের জীবিকা ও বাসস্থানের ওপর চরম আঘাত হানবে। এছাড়া আগামী ১২, ১৩ এবং ১৪ আগস্ট অন্য একটি কো-অর্ডিনেট বেঞ্চে এই সংক্রান্ত সমগোত্রীয় মামলার শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। তাই সেই শুনানি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত উচ্ছেদে স্থগিতাদেশ প্রয়োজন বলে তিনি সওয়াল করেন।
মামলা চলাকালীন রাজ্য সরকারের পক্ষের আইনজীবী স্পষ্ট করে দেন যে, এই আইনি বিরোধে রাজ্য সরকার সরাসরি কোনো পক্ষ নয়। বিষয়টি মূলত রেল কর্তৃপক্ষ ও আবেদনকারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বেলঘরিয়া স্টেশনে উচ্ছেদ অভিযানের ওপর সাময়িক স্থগিতাদেশ জারি করেন। আদালতের এই নির্দেশে আপাতত স্বস্তি পেয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা। তবে এখন সমস্ত নজর ১৩ আগস্টের পরবর্তী শুনানির দিকে, যেখানে বেলঘরিয়া স্টেশনের উচ্ছেদ সংক্রান্ত আইনি ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস