আত্মহত্যার আগে চিরকুটে মা-বাবার কাছে ক্ষমা চাইলেন সন্তান

ভারতের দিল্লিতে মানাব রাচনা ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ রিসার্চ অ্যান্ড স্টাডিজে অধ্যয়নরত মোস্তাক আহমেদ সাগর নামের এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২৫ বছর বয়সী এই শিক্ষার্থী গত শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক আবেগঘন বার্তা লিখে নিজের জীবনাবসানের পথ বেছে নেন। তিনি জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের ঘুঘুমারি এলাকার মোশারফ হোসেন মিন্টুর ছেলে।

বিজ্ঞাপন

নিহতের বাবা মোশারফ হোসেন মিন্টু জানান, তার ছেলে ফেসবুকে যে দীর্ঘ স্ট্যাটাসটি দিয়েছে, সেখানে সে নিজের হতাশা ও ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করেছে। স্ট্যাটাসে সাগর তার বাবা-মায়ের কাছে ক্ষমা চেয়ে জানায়, সে অনেকদিন থেকেই বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিল কিন্তু শেষ পর্যন্ত ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। কারো প্রতি কোনো প্রকার দায় না চাপিয়ে সে প্রিয় মানুষের জন্য শুভকামনা জানিয়ে নিজেকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেয়। ময়নাতদন্ত না করার অনুরোধ জানিয়ে নিজের কবরের দেওয়ালে ‘হতভাগা’ লিখে রাখার আকুতিও জানায় সে।

সাগরের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, উচ্চশিক্ষার জন্য তাকে দিল্লিতে পাঠানোর পর থেকে তিনি নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে একটি প্রণয়ঘটিত সম্পর্কের জটিলতায় সাগর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। সহপাঠীরা তার মানসিক পরিস্থিতির অবনতি দেখে দেশে ফিরে আসার পরামর্শ দিলেও তিনি তাতে কর্ণপাত করেননি। বর্তমানে তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে আকুল আবেদন জানানো হয়েছে।

ঘটনাটি নিশ্চিত করে মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা স্নেহাশীষ রায় জানিয়েছেন, বিষয়টি অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং মর্মান্তিক। পরিবারের সদস্য থেকে শুরু করে এলাকাবাসী শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েছেন। সাগরের স্বপ্নভঙ্গ এবং অকাল প্রস্থান পুরো গ্রামে শোকের ছায়া ফেলেছে।

বিজ্ঞাপন
সম্পর্কিত- আত্মহত্যা
0%
0%
0%
0%