হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন নৌ অবরোধে সিউলের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ ঘিরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের ভূরাজনৈতিক দ্বন্দ্বে জটিল পরিস্থিতিতে দক্ষিণ কোরিয়া

ইরানের ওপর মার্কিন নেতৃত্বাধীন নৌ-অবরোধে সিউলকে যুক্ত করতে তীব্র কূটনৈতিক ও সামরিক চাপ তৈরি করেছে ওয়াশিংটন। হরমুজ প্রণালীতে সম্ভাব্য দক্ষিণ কোরীয় অংশগ্রহণ মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, এই ধরনের পদক্ষেপে সহযোগিতা করা হলে তার মারাত্মক পরিণাম ভোগ করতে হবে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন। তিনি জানান, তেহরান এবং সিউলের মধ্যে ৬৪ বছরেরও বেশি সময় ধরে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রয়েছে। তবে মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বর্তমান আত্মরক্ষামূলক লড়াইয়ে দক্ষিণ কোরিয়া অংশ নিলে সেই বন্ধুত্বের সম্পর্ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তেহরানের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীতে যেকোনো দেশের সামরিক উপস্থিতি বা অংশগ্রহণকে সরাসরি আগ্রাসনকারী শক্তির মদদ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্রের উচিত নয় মার্কিন চাপের মুখে নমনীয়তা দেখিয়ে এই সংঘাতে অংশ নেওয়া। বর্তমান পরিস্থিতিতে তেহরান কোনো ধরনের বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি আহ্বানের পরেই এই সংকটের সূত্রপাত ঘটে, যেখানে সিউলকে এই সংঘাতে সামান্য সহায়তার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। যদিও দক্ষিণ কোরিয়া শুরুতে এই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিল, তবে এর তাৎক্ষণিক কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়া বড় পরিসરે কমিয়ে দিয়েছে ওয়াশিংটন। এমতাবস্থায়, এই গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত প্রণালীর পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখছে দক্ষিণ কোরিয়া।

০%
০%
০%
০%