হরমোজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের টানাপোড়েন অব্যাহত আলোচনার পথ এখনো অনিশ্চিত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিরসনে পুনরায় আলোচনায় বসার কোনো সিদ্ধান্ত এখনো নেয়নি ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি শনিবার টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। যদিও কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীরা উভয় পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রেখেছেন, তবে তেহরান একে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হিসেবে গণ্য করতে রাজি নয়। আরাকচির মতে, জুন মাসে পাকিস্তানে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘনের দায় সম্পূর্ণভাবে ওয়াশিংটনের।

হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়টি অত্যন্ত জটিল রাজনৈতিক শর্তাবলির ওপর নির্ভরশীল বলে মন্তব্য করেছেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, বিদ্যমান রুটগুলো অকার্যকর হয়ে পড়ায় ওমানের সঙ্গে মিলে নতুন একটি বিকল্প নৌপথ তৈরির কাজ করছে ইরান। তবে এই রুট চূড়ান্ত করার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক সমাধানের ওপর অনেকাংশে নির্ভর করছে।

এদিকে হরমুজ প্রণালীকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে তেহরান। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি স্পষ্ট করে বলেছেন, এই প্রণালী ঐতিহাসিকভাবে ইরানের এবং তা ইরানের দখলেই থাকবে। সাম্প্রতিক সময়ে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি তেলবাহী জাহাজের ওপর হামলার ঘটনায় উত্তেজনা আরও ঘনীভূত হয়েছে।

ওয়াশিংটন ও ইসরায়েল গত ছয় মাস ধরে সামরিক চাপ প্রয়োগ করেও ইরানের শাসনব্যবস্থাকে টলাতে ব্যর্থ হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রশাসন এখন অর্থনৈতিক অবরোধের মাধ্যমে তেহরানকে কোণঠাসা করার কৌশল অবলম্বন করেছে। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ঘোষণা করেছেন, ইরানকে অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতার মুখে ফেলতে নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশটির বন্দরগুলো কার্যত অচল করে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ওয়াশিংটন।

১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকেই ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হয়ে আসছে। বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রশাসন নতুন করে যে 'অর্থনৈতিক দাবার ছক' সাজিয়েছে, তাতে কোনো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নেই। হোয়াইট হাউসের সাবেক মধ্যপ্রাচ্য উপদেষ্টা মার্ক গিনসবার্গের মতে, এই পরিস্থিতি এক প্রকার ‘অর্থনৈতিক আত্মঘাতী দৌড়’। তার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ইরানের ওপর চূড়ান্ত চাপ প্রয়োগের নীতি শেষ পর্যন্ত বড় কোনো পরিবর্তন না এনে বরং সংকটকেই দীর্ঘায়িত করতে পারে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

০%
০%
০%
০%
বিজ্ঞাপন