পারস্য উপসাগরে উত্তপ্ত সামরিক পরিস্থিতি তেহরান ও ওয়াশিংটনের পাল্টাপাল্টি হামলায় সংঘাতের নতুন মোড়

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে উত্তেজনা এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সাথে ইরানের সরাসরি সংঘাত বিশ্বজুড়ে জ্বালানি নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর গভীর সংকটের ছায়া ফেলেছে। সম্প্রতি খারগ দ্বীপ ও জাস্ক উপকূলের কাছে ইরানের তিনটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাঙ্কারে মার্কিন সেন্টকমের বিমান হামলার পর তেহরান কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ইরান ঘোষণা করেছে যে, আনুপাতিক বা সমানুপাতিক প্রতিশোধের সময় এখন শেষ হয়ে গেছে।

ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। তেহরানের দাবি, তাদের এই হামলায় মার্কিন রণতরী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তারা পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে, যদিও মার্কিন সেন্টকম এই দাবি নাকচ করে দিয়ে জানিয়েছে যে তারা সফলভাবে আক্রমণ প্রতিহত করেছে। একইসাথে ইরান দাবি করেছে, তারা হরমুজ প্রণালীতে অনুপ্রবেশকারী একটি মার্কিন ড্রোন ধ্বংস করেছে, যা এই অঞ্চলে চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতিরই বহিঃপ্রকাশ।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে স্পষ্ট করেছেন যে, ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে তেহরানের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপ কেবল একটি সূচনা মাত্র। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের স্বার্থের ওপর যেকোনো আঘাতের জবাব এখন থেকে আরও দ্রুত, ভারী এবং বেদনাদায়ক হবে। তেহরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মার্কিন এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং যুদ্ধাপরাধ হিসেবে অভিহিত করে জাতিসংঘ সনদের প্রতি তাদের প্রতিবাদের কথা জানিয়েছে।

হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের তথ্যে ব্যাপক অমিল পরিলক্ষিত হচ্ছে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, তাদের নির্দেশনায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে এবং ট্রাফিক পরিস্থিতি যুদ্ধের আগের অবস্থায় ফিরে আসছে। বিপরীতে, ইরান জোর দিয়ে বলছে যে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি এখনো অবরুদ্ধ রয়েছে, যার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আগস্ট মাসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারির তুলনায় ৩৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বর্তমানে বিশ্ববাজারে দৈনিক প্রায় ৭ দশমিক ২ মিলিয়ন ব্যারেল তেলের ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন নৌ-অবরোধ এবং ইরানের পাল্টা আক্রমণের এই চক্র বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

০%
০%
০%
০%
বিজ্ঞাপন