ইরানের ওপর অবরোধ দীর্ঘায়িত করার ঘোষণায় হোয়াইট হাউসে অস্বস্তি ও নৌবাহিনীর সক্ষমতা নিয়ে বিতর্ক

ইরানের ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধ অনির্দিষ্টকাল ধরে চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। এদিকে পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন নৌবাহিনীর এই কঠোর অবস্থান ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হচ্ছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত অঞ্চলে মোতায়েন করা মার্কিন রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের নাজুক পরিস্থিতি এবং এর নাবিকদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হওয়ার খবর ওয়াশিংটনের নীতি-নির্ধারকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

প্যানামায় সফরকালে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সাংবাদিকদের জানান, মার্কিন নৌবাহিনী নিয়মিত বিরতিতে জাহাজ পরিবর্তনের মাধ্যমে এই অবরোধ দীর্ঘসময় ধরে বজায় রাখতে সক্ষম। একই সুরে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, আগামী সপ্তাহে তেহরানের ওপর নজিরবিহীন অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের নতুন পরিকল্পনা রয়েছে ওয়াশিংটনের। তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালীতে কঠোর অবরোধ এবং কঠোর অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতার মাধ্যমে ইরানকে কোণঠাসা করাই বর্তমান কৌশলের মূল লক্ষ্য।

তবে মার্কিন এই রণতরিকে ঘিরে সৃষ্ট বিতর্ক ক্রমেই জটিল হচ্ছে। নেভি টাইমস ও স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সাত মাস ধরে সমুদ্রে টানা মোতায়েন থাকা এই রণতরির নাবিকদের মধ্যে তীব্র মানসিক অবসাদ ও আত্মহত্যার প্রবণতা দেখা দিয়েছে। ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেন্থালসহ যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতারা এই পরিস্থিতির তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিষয়টি তদন্তের দাবি তুলেছেন। সেনেটের সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার সরাসরি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর অযোগ্যতার দিকে আঙুল তুলে তাকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের নাবিকদের মৃত্যু নিয়ে ইরানসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া খবরটিকে ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। তাদের দাবি, রণতরিতে থাকা নৌ-সদস্যরা মানসিকভাবে অটল রয়েছেন এবং কোনো নাবিকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে, টানা দীর্ঘ সময় সাগরে অবস্থানের ফলে যুদ্ধজাহাজের রক্ষণাবেক্ষণ ও কারিগরি সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা মার্কিন নৌবাহিনীর দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের সক্ষমতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

অপরদিকে ইরান এই অবরোধকে ‘জলদস্যুতা’ আখ্যা দিয়ে সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, তাদের শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করা হবে না। তেহরানের ভাষ্যমতে, ওয়াশিংটনের প্রতিটি উসকানিমূলক পদক্ষেপের বিপরীতে তারা অপ্রতিসম যুদ্ধের মাধ্যমে জবাব দেবে। আন্তর্জাতিক ক্রাইসিস গ্রুপের বিশ্লেষক আলী ভয়েজ মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের চাপ সত্ত্বেও ইরান এই সংকটে কৌশলগতভাবে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে, কারণ তেহরান ভালো করেই জানে যে দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের মুখে হোয়াইট হাউসের ধৈর্যই প্রথম ফুরিয়ে যাবে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

০%
০%
০%
০%
বিজ্ঞাপন