সৌদি আরবে হুথি বাহিনীর ড্রেন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, কঠোর প্রতিশোধের হুংকার রিয়াদের

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়ে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক হামলায় দক্ষিণ সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অন্তত ৭৩ জন আহত হয়েছেন। ইরান সমর্থিত এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের এই নতুন অবনতি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতার ওপর গভীর ছায়া ফেলেছে। রিয়াদ এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর ও দৃঢ় প্রতিশোধ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে।

গত মঙ্গলবার হুথি সামরিক মুখপাত্রের ঘোষণা অনুযায়ী, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের আভা, খামিস মুশাইত, জাজান এবং নাজরান শহর লক্ষ্য করে এই ব্যাপক সামরিক অভিযান চালানো হয়। সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, এই ড্রেন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে রাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশের বেশ কয়েকটি তেল স্থাপনা এবং ইউটিলিটি সাইটে মারাত্মক অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটে। আহতদের মধ্যে নারী ও শিশুরাও রয়েছে বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সঙ্গে বিদ্রোহী গোষ্ঠীটির লড়াই তীব্র আকার ধারণ করার প্রেক্ষাপটে এই হামলাগুলো সংঘটিত হলো। এর আগে সোমবার সরকার সমর্থিত বাহিনী হুথি নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন প্রদেশে পাল্টা আক্রমণ শুরু করার ঘোষণা দেয়। জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর এটিই বর্তমান সংকটের সবচেয়ে গুরুতর সামরিক escalation বা তীব্রতা বৃদ্ধি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশটিতে আট বছরের পূর্ণাঙ্গ সংঘাতে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানির পর এই নতুন সংঘাত আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে নতুন এক চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে। হরমুজ প্রণালীর কার্যকর বন্ধের প্রেক্ষাপটে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালীর নিরাপত্তা এখন বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে। হুথিরা কৌশলগতভাবে এই সমুদ্রপথের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের ওপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে।

০%
০%
০%
০%