চট্টগ্রামে গত এক থেকে দেড় বছরে বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের জড়িত থাকার অভিযোগে একের পর এক সংঘর্ষ, গোলাগুলি, খুন, অস্ত্র উদ্ধার ও চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটছে। এসব সহিংস ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে তীব্র অসন্তোষ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ এ ধরনের নৈরাজ্যের দ্রুত ও কঠোর বিচার দাবি করেছেন।
পুলিশ ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সীতাকুণ্ড পৌর সদরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে দলের দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ত্রিশজন আহত এবং যানবাহন ভাঙচুর করা হয়। এছাড়া খুলশীতে শীর্ষ সন্ত্রাসী ওয়াকিল হোসেনকে গ্রেপ্তারে যাওয়া পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ ছয় পুলিশ সদস্য আহত হন।
অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং আধিপত্য বিস্তারের জেরে গত দেড় বছরে চট্টগ্রামে অন্তত পাঁচজন নেতাকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। বাকলিয়ায় যুবদলের দুই পক্ষের গোলাগুলিতে ছাত্রদল কর্মী নিহত হওয়া ছাড়াও রাউজান ও মীরসরাইয়ে একাধিক যুবদল ও ছাত্রদল নেতা হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জেলা পুলিশ জানিয়েছে, সন্ত্রাসী বা বিশৃঙ্খলাকারীদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হচ্ছে না এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে সংঘাত ও চাঁদাবাজিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।