শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী: অনিয়মে চিকিৎসকদের টার্মিনেশন-সাসপেনশনের হুঁশিয়ারি

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে দায়িত্বে অবহেলা ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, দায়িত্ব পালনে গাফিলতি করলে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে টার্মিনেশন ও সাসপেনশনের মতো কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন এবং চিকিৎসাসেবা, ওষুধ সরবরাহ, রোগীদের উপস্থিতি, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের দায়িত্ব পালনসহ সার্বিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।
পরিদর্শনকালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে সেবার মান সম্পর্কে খোঁজখবর নেন তিনি। পাশাপাশি হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং প্রয়োজনীয় উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উদ্দেশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “আপনাদের অনুরোধ করে বলছি, এরপরও যদি অনিয়মিতভাবে কাজ করেন, তাহলে টার্মিনেশন অথবা সাসপেনশন করতেই হবে। আমরা এখন অনেক কঠোর পদক্ষেপ নেব। যতদিন নরম থাকার প্রয়োজন ছিল, ততদিন ছিলাম। এখন আর নরম থাকার সুযোগ নেই।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমান সময়ের চেয়ে আন্তরিক প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের ইতিহাসে আর আসবে না। এই সরকার ব্যর্থ হলে এ দেশে কেউ বাস করতে পারবে না। জুলাই অভ্যুত্থানের পর এই সময়ে যদি আমরা আমাদের কমিটমেন্ট বাস্তবায়নে ব্যর্থ হই, তাহলে শুধু আমরাই নয়, আপনারাও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তাই সবাই বাড়িতে না থেকে নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত থেকে দায়িত্ব পালন করুন।”
এ সময় স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে সবাইকে সততা, নিষ্ঠা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
পরিদর্শন শেষে হাসপাতালের সামনে অবস্থিত দুটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও কাগজপত্র না থাকায় মডার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এছাড়া সরকারি অফিস চলাকালে প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অভিযোগে দুই চিকিৎসককে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এ আকস্মিক পরিদর্শন ও অভিযান ভেদরগঞ্জের স্বাস্থ্যখাতে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
