AdvertisementAdvertisement

নাগরিকত্বের নথি উধাও, ফাতিমা বিবির কারাবাস নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা তলব হাইকোর্টের

নাগরিকত্ব সংক্রান্ত জটিলতায় জড়িয়ে দীর্ঘ সময় কারাভোগের পর প্রবীণ এক নারীর আইনি লড়াই ঘিরে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট। হুগলির হরিপালের বাসিন্দা ফাতিমা বিবিকে পাকিস্তানি নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে আদালত প্রশ্ন তুলেছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নথিপত্র থেকে কীভাবে আবেদনকারীর দুটি গুরুত্বপূর্ণ ফাইল গায়েব হয়ে গেল। গত দুই দশকের পুরনো ডকেট নম্বর উল্লেখ করে আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে যে, অবিলম্বে হারিয়ে যাওয়া ফাইল খুঁজে বের করতে হবে।

আনন্দবাজার অনলাইনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৬৫ সালে হুগলির হরিপালে জন্ম নেওয়া ফাতিমা বিবির বাবা-মা উভয়ই ভারতীয় নাগরিক। শৈশবে তিন বছর বয়সে বাবার সঙ্গে পাকিস্তানে গেলেও ১৩ বছর পর ১৯৮১ সালে তিনি ভারতে ফিরে আসেন এবং পরবর্তীতে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে দুই কন্যার জননী হন। ফাতিমার দাবি, তিনি বৈধভাবেই ১৯৮২ সালে ভারতে ফেরার পর থেকেই স্থানীয় জমি-জমা এবং কর সংক্রান্ত সরকারি নথিতে নিজের নাগরিকত্বের প্রমাণ রেখে এসেছেন। এরপর ২০০৩ সালে তিনি ভারত সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন জানিয়েছিলেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

ফাতিমার অভিযোগ, সেই সময় জমা দেওয়া মূল আবেদনপত্র এবং যাবতীয় নথিপত্র স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের দপ্তর থেকে রহস্যজনকভাবে হারিয়ে গেছে। আদালত পর্যবেক্ষণ করেছে, যদি আইনি লড়াইয়ে ফাতিমা বিবি নিজেকে ভারতীয় হিসেবে প্রমাণ করতে সক্ষম হন, তবে তাঁর কারাবাস এবং হয়রানির জন্য ক্ষতিপূরণের দায়ভার কে নেবে—ভারত নাকি পাকিস্তান, তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। বর্তমানে ফরেনার্স অ্যাক্টের ১৪ ধারায় দায়ের হওয়া মামলায় জামিনে মুক্ত রয়েছেন এই প্রৌঢ়া।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২ মে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তারের পর থেকে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে ফাতিমাকে। আদালত সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও কেন্দ্রীয় সরকার তাঁর কাছে নাগরিকত্বের মূল আবেদনপত্রের প্রতিলিপি এবং পাসপোর্টসহ অন্যান্য বৈধ ভিসার নথি পুনরায় জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। তবে সরকারি দপ্তরে ফাইল খুঁজে না পাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে আগামী ১৭ আগস্ট মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে হাইকোর্ট। এই প্রেক্ষাপটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%