দীর্ঘ ১৯ বছর পর কলকাতায় ফিরলেন তসলিমা নাসরিন নিরাপত্তা নিশ্চিতের আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

দীর্ঘ ১৯ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে কলকাতায় পা রাখলেন বিতর্কিত বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিন। শনিবার রবীন্দ্র সদনে আয়োজিত এক কবিতা পাঠের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি পুনরায় জনসমক্ষে এলেন। এই বিশেষ আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তসহ বিশিষ্টজনেরা। অনুষ্ঠানে তসলিমা নাসরিনকে উষ্ণ সংবর্ধনা জানানোর পাশাপাশি তাকে রাজ্যে ফেরার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
দীর্ঘ প্রায় দুই দশক আগে ‘দ্বিখণ্ডিত’ শীর্ষক আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ প্রকাশের পর পশ্চিমবঙ্গজুড়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। সেই সময়ে সৃষ্ট আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জেরে বামফ্রন্ট সরকার গ্রন্থটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে এবং তসলিমা নাসরিনকে রাজ্য ছাড়তে বাধ্য করা হয়। পরবর্তী সময়ে তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনামলেও দীর্ঘ বছর তিনি বাংলায় ফেরার সুযোগ পাননি। অবশেষে বিজেপি সরকারের আমলে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে তার এই প্রত্যাবর্তনের ঘটনাটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ শৃঙ্খলমুক্ত এবং সংবিধানের প্রতিটি স্তম্ভ এখানে সুরক্ষিত। তিনি আরও যোগ করেন, এই রাজ্যে সবার আসার সুযোগ রয়েছে এবং প্রতিটি নাগরিকের বাক্স্বাধীনতা সংরক্ষিত। তসলিমা নাসরিনের আগমনকে নতুন সরকারের অধীনে গণতন্ত্র এবং মৌলিক অধিকারের সুরক্ষার প্রতীক হিসেবে আখ্যায়িত করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন যে, অতীতে যেসব ভয়-ভীতি বা হুমকি প্রদর্শনের সংস্কৃতি ছিল, তা বর্তমানে বিলুপ্ত।
নিরাপত্তা ও যথাযথ সম্মানের সাথে তাকে স্বাগত জানানোয় সরকারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তসলিমা নাসরিন। তিনি বলেন, ভারতীয় নাগরিক না হওয়া সত্ত্বেও একজন নির্যাতিত লেখকের মতপ্রকাশের অধিকারকে বর্তমান সরকার যে গুরুত্ব দিয়েছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। আশা প্রকাশ করে লেখিকা বলেন, বর্তমান প্রশাসন কেবল তার নয়, বরং সমাজের সব শিল্পী, নারী, সংখ্যালঘু ও ভিন্নমতাবলম্বী মানুষের অধিকার রক্ষায় বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে বন্দেমাতরমের সার্ধশতবর্ষ উপলক্ষে ঋষি বঙ্কিমচন্দ্রের প্রতিকৃতি উপহার দিয়ে তসলিমা নাসরিনকে বরণ করে নেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস
