প্যারিসের বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টে ইতালিয়ান তারকা গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা এবং তার স্ত্রীর ওপর ভয়াবহ হামলার ঘটনায় দুই অপরাধীকে কারাদণ্ড দিয়েছেন প্যারিসের অপরাধ আদালত। ২০২৩ সালের জুলাই মাসে ঘটা এই নৃশংস ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মাঠের বাইরে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে এই ঘটনাটি বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে বড় ধরনের উদ্বেগের সৃষ্টি করেছিল।
ঘটনার মূল হোতা ২১ বছর বয়সী ইলিয়াস খেরবাউশকে আদালত নয় বছরের কারাদণ্ড এবং ৮০ হাজার ইউরো জরিমানার আদেশ দিয়েছে। এছাড়া অপর অভিযুক্ত মোখতার ডি-কে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে দুই বছর স্থগিত রাখা হয়েছে প্রবেশনারি শর্তে। তবে কিয়ান এম নামের তৃতীয় এক অভিযুক্তকে প্রমাণের অভাবে খালাস দিয়েছেন আদালত।
২০২৩ সালের ২১ জুলাই গভীর রাতে চারজন মুখোশধারী ডাকাত প্যারিসের অ্যাভিনিউ মঁতেন এলাকায় অবস্থিত দোন্নারুম্মার অ্যাপার্টমেন্টে ছাদ দিয়ে প্রবেশ করে। সেই সময় পিএসজির হয়ে খেলা এই তারকা গোলরক্ষক এবং তার তৎকালীন বাগদত্তা আলেসিয়া এলেফান্তেকে জিম্মি করে মারধর করা হয়। ডাকাতরা ধারালো অস্ত্রের মুখে তাদের বেঁধে ফেলে এবং মূল্যবান ঘড়ি, গয়না ও নগদ অর্থসহ প্রায় ১০ লক্ষ ইউরো সমমূল্যের সম্পদ লুট করে নিয়ে যায়।
হামলার সময় দোন্নারুম্মাকে আঘাতের পর আঘাত করে রক্তাক্ত করা হয় এবং তার স্ত্রীকে ফোন চার্জিং ক্যাবল দিয়ে শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করা হয়। এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার ট্রমা থেকে দোন্নারুম্মার স্ত্রী পরবর্তীতে গর্ভপাতজনিত জটিলতার শিকার হন, যা পুরো ক্রীড়া বিশ্বে শোকের ছায়া ফেলেছিল। বর্তমানে ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে খেলা এই ইতালিয়ান গোলরক্ষকের ওপর চালানো এই পাশবিক নির্যাতনের বিচার চেয়েছিল পুরো ফুটবল বিশ্ব।
প্যারিসের অভিজাত এলাকাগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে খেলোয়াড় ও তারকাদের লক্ষ্য করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাওয়ায় আদালত এই রায়ের মাধ্যমে কঠোর বার্তা দিয়েছে। প্রসিকিউটররা উল্লেখ করেছেন যে, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে অন্তত সাতজন তারকা এই ধরনের অপরাধী চক্রের শিকার হয়েছেন। ন্যায়বিচারের এই রায় ভুক্তভোগী পরিবারটির জন্য কিছুটা স্বস্তি বয়ে আনলেও সেই রাতের বিভীষিকা এখনো ক্রীড়াঙ্গনের জন্য একটি বড় ক্ষত হয়ে আছে।