ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার বিরুদ্ধে আইনি লড়াই আরও জোরদার করেছে ইউরোপীয় লিগস। পুরুষ ফুটবলের আন্তর্জাতিক ম্যাচ ক্যালেন্ডার নিয়ে করা আগের অভিযোগের পরিধি বাড়িয়ে এখন নারী ফুটবলের ক্ষেত্রেও ফিফার ‘অপব্যবহারমূলক আচরণ’ নিয়ে ইউরোপীয় কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে তারা। এই পদক্ষেপের ফলে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার ওপর চাপের মাত্রা বহুগুণ বেড়ে গেল।
গত অক্টোবর মাসে ইউরোপীয় লিগস প্রথম ফিফার বিরুদ্ধে ইউরোপীয় কমিশনে অভিযোগ দায়ের করেছিল। তাদের দাবি, ২০২৩ সালে ঘোষিত পুরুষদের আন্তর্জাতিক ম্যাচ ক্যালেন্ডার তৈরির সময় ফিফা লিগগুলোর সাথে যথাযথ পরামর্শ করেনি, যা ইউরোপীয় প্রতিযোগিতামূলক আইনের পরিপন্থী। প্রিমিয়ার লিগ ও স্কটিশ প্রফেশনাল ফুটবল লিগসহ বেশ কয়েকটি প্রভাবশালী লিগ এই অভিযোগের সাথে যুক্ত রয়েছে।
চলতি বছরের জুন মাসে ইউরোপীয় লিগস তাদের সদস্য তালিকায় ১৪টি নারী লিগকে অন্তর্ভুক্ত করেছে, যার মধ্যে ইংল্যান্ডের উইমেনস সুপার লিগ ও স্কটিশ উইমেনস প্রিমিয়ার লিগ অন্যতম। এই নতুন অন্তর্ভুক্তির পর নারী ফুটবলের আন্তর্জাতিক ক্যালেন্ডারের ওপর ফিফার সিদ্ধান্তের প্রভাব নিয়ে তারা নতুন করে সরব হয়েছে। তাদের মতে, ফিফার একতরফা সিদ্ধান্ত নারী ফুটবলের প্রবৃদ্ধি ও আর্থিক স্থায়িত্বের জন্য বড় হুমকি।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ফিফা একই সাথে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও প্রতিযোগিতার আয়োজক হিসেবে কাজ করায় স্বার্থের সংঘাত তৈরি হচ্ছে। ফিফা তাদের নিয়ন্ত্রক ক্ষমতা ব্যবহার করে নিজেদের বাণিজ্যিক স্বার্থকে প্রাধান্য দিচ্ছে, যা জাতীয় লিগগুলোর জন্য ক্ষতিকর। ইউরোপীয় লিগস মনে করে, ইউরোপীয় কমিশনের উচিত দ্রুত হস্তক্ষেপ করা যাতে ফিফা এককভাবে ফুটবলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে না পারে।
ফিফা অবশ্য বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তাদের দাবি, ২০২৩ সালের কংগ্রেসে ঘোষিত ক্যালেন্ডার সব স্টেকহোল্ডারদের সাথে আলোচনার মাধ্যমেই তৈরি করা হয়েছে। তবে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিভিন্ন বিতর্কিত বাণিজ্যিক পরিকল্পনা এবং ব্যক্তিগত বিনিয়োগের উদ্যোগ নিয়ে মহাদেশীয় কনফেডারেশনগুলোর অসন্তোষ এই আইনি লড়াইকে আরও জটিল করে তুলেছে।