এমিরেটস স্টেডিয়ামে রোমাঞ্চকর লন্ডন ডার্বিতে চেলসির বিপক্ষে ২-১ গোলের জয় তুলে নিয়েছে আর্সেনাল। প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা ধরে রাখার মিশনে এটি গানারদের জন্য এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা ছিল। ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়লেও দুর্দান্তভাবে ম্যাচে ফিরে আসে মিকেল আর্তেতার শিষ্যরা। এই জয়ের মাধ্যমে চেলসির অপরাজিত থাকার দৌড় থামিয়ে পয়েন্ট টেবিলে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করল আর্সেনাল।
ম্যাচের শুরুতেই মরগান রজার্সের গোলে এগিয়ে গিয়ে চমক দেখিয়েছিল চেলসি। তবে চ্যাম্পিয়নদের মানসিক দৃঢ়তা ছিল দেখার মতো। প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে কাই হাভার্টজ তার সাবেক ক্লাবের বিপক্ষে গোল করে সমতা ফেরান। এরপর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই মার্টিন ওডেগার্ডের লক্ষ্যভেদী শট আর্সেনালকে জয়সূচক গোল এনে দেয়।
লিগ টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে থাকা আর্সেনাল টানা তিন ম্যাচ জিতে শিরোপা ধরে রাখার দৃঢ় সংকল্প দেখাল। ১৯৩০ সালের পর প্রথমবারের মতো টানা দুইবার লিগ শিরোপা জয়ের পথে গানাররা যে কতটা মরিয়া, তা তাদের আজকের পরিপক্ক পারফরম্যান্সেই স্পষ্ট। ম্যানচেস্টার সিটির সমান পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকলেও তাদের এই জয় আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ।
চেলসির কোচ জাবি আলোনসোর জন্য এটি বড় এক ধাক্কা, কারণ স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে দায়িত্ব নেওয়ার পর টানা তিন জয়ের ধারা এখানেই থেমে গেল। চেলসির রক্ষণভাগের দুর্বলতা এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ভুলগুলো আজ তাদের পরাজয়ের মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০১৭ সাল থেকে শিরোপা খরায় ভোগা চেলসিকে যে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে, তা এই ম্যাচ থেকেই পরিষ্কার।
আর্তেতা এবং আলোনসোর শৈশবের বন্ধুত্বের গল্প ফুটবল বিশ্বে বেশ পরিচিত। স্পেনের সান সেবাস্তিয়ানের সেই ছোট মাঠের স্মৃতি ছাপিয়ে আজ লন্ডনের মাঠে দেখা গেল দুই কোচের ট্যাকটিক্যাল লড়াই। চেলসির হয়ে রেকর্ড মূল্যে যোগ দেওয়া মরগান রজার্স গোল করে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিলেও শেষ পর্যন্ত আর্সেনালের সুসংগঠিত ফুটবলের কাছে হার মানতে হয়েছে ব্লুজদের।