ইয়েমেনে সরকারি বাহিনী এবং হুথি বিদ্রোহীদের নতুন দফার তীব্র লড়াইয়ের মধ্যে শিশু সেনা নিয়োগের প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে জর্জরিত এই দেশটিতে দারিদ্র্য ও চরম বঞ্চনার সুযোগ নিয়ে কিশোরদের যুদ্ধক্ষেত্রে টেনে নেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি ও মানবাধিকারের বরখেলাপ হিসেবে এই ঘটনা বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
রাজধানী সানার একটি ঘটনায় জানা যায়, এক হুথি সংগ্রাহক ষোলো বছর বয়সী আবদুল করিমের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে মারিবের সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। তাকে একটি কালাশনিকভ রাইফেল, এক মাসের সামরিক প্রশিক্ষণ এবং স্থানীয় গড়ের তুলনায় কিছুটা বেশি আর্থিক সম্মানী দেওয়ার লোভ দেখানো হয়। গ্রামীণ অঞ্চলের অর্ধেকের বেশি শিশু বহুমুখী বঞ্চিত হওয়ার কারণে এই ধরনের প্রস্তাব তাদের জন্য অত্যন্ত লোভনীয় হয়ে ওঠে।
তবে পরিবারের বাধায় আবদুল করিম শেষ পর্যন্ত যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়া থেকে বিরত থাকলেও দেশটির অনেক পরিবার চরম অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ভিন্ন বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছে। আডেনে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের মানবাধিকার বিভাগের প্রধান আলি হাযাজি জানিয়েছেন, শুধুমাত্র ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে হুথি নিয়ন্ত্রিত প্রদেশগুলোতে ৬২টি শিশু সেনা নিয়োগের ঘটনা নথিবদ্ধ করা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই নথিভুক্ত সংখ্যাটি প্রকৃত চিত্রের কেবল একটি অংশ মাত্র, কারণ বহু ঘটনাই অপ্রকাশিত থেকে যায়।
অন্যদিকে, ১৭ বছর বয়সী আহমেদ নামের এক কিশোর গত মে মাস থেকে হুথিদের পক্ষে লোহিত সাগরের কৌশলগত বন্দর হোদেইদার অগ্রবর্তী রণক্ষেত্রে অবস্থান করছে। তার পরিবার সন্তানের মাসিক বেতনের আশার পাশাপাশি তাকে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে গণ্য করে এই যুদ্ধযাত্রায় সম্মতি প্রদান করেছে। প্রথম এক মাস অস্ত্র চালনা ও মাইনক্ষেত্র অতিক্রমের প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর বর্তমানে সে একজন প্রশিক্ষিত যোদ্ধা হিসেবে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
সরকারপন্থী বাহিনীর প্রধান সামরিক অভিযানের মুখে আল-ধালে ফ্রন্টসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে বেশ কিছু শিশু সেনাকে আটক করা হয়েছে। সরকারি বাহিনীর হাতে বন্দী হওয়ার পর আতঙ্কগ্রস্ত এসব শিশুকে নিরাপদে রাখার আশ্বাস দেওয়া হলেও, চলমান সংঘাতের মধ্যে শিশু যোদ্ধাদের এই নির্মম পরিণতি দেশটিতে গভীর মানবিক সংকটের ইঙ্গিত দেয়।