AdvertisementAdvertisement

মৃত্যু নিয়ে খোলামেলা আলোচনায় ভক্তদের আবেগাপ্লুত করলেন সংগীতশিল্পী লাকি আলী

বলিউডের সুরের জাদুকর এবং কোটি ভক্তের হৃদস্পন্দন লাকি আলী। নব্বইয়ের দশকের নস্টালজিয়া থেকে শুরু করে বর্তমান প্রজন্মের প্লে-লিস্ট পর্যন্ত—যাঁর কণ্ঠের জাদুতে বুঁদ হয়ে থাকে সংগীতপ্রেমীরা, সেই প্রিয় শিল্পীই এবার আলোচনায় এলেন জীবন ও মৃত্যুর এক অমোঘ বাস্তবতাকে সামনে এনে। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে মৃত্যুর অনিবার্যতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নিজের দীর্ঘদিনের এক গোপন প্রস্তুতির কথা ফাঁস করেছেন এই কিংবদন্তি। আর তাঁর এই আধ্যাত্মিক ও নির্লিপ্ত দৃষ্টিভঙ্গি মুহূর্তেই নাড়িয়ে দিয়েছে অগুনতি ভক্তের হৃদয়।

দুবাইতে আয়োজিত আসন্ন কনসার্টের ঠিক আগমুহূর্তে লাকি আলী জানালেন, তিনি ভ্রমণের সময় সবসময় নিজের সঙ্গে একটি ‘ইহরাম’ রাখেন। পবিত্র হজের সময় পরিহিত এই সাদা বস্ত্রটিকেই তিনি নিজের কাফনের কাপড় হিসেবে বিবেচনা করেন। শিল্পীর ভাষ্য, মৃত্যুর জন্য তিনি মানসিকভাবে প্রস্তুত। তিনি অকপটে বলেন, ‘আমি যখনই ভ্রমণে বের হই, সঙ্গে আমার ইহরাম রাখি। যেখানেই আমার শেষ সময় আসবে, সেখান থেকেই যেন আমাকে বিদায় দেওয়া হয়।’ মৃত্যুকে নিয়ে এমন খোলাখুলি আলোচনায় ভক্তদের মনে একদিকে যেমন বিষাদ জেগেছে, অন্যদিকে তাঁর এই সহজ স্বীকারোক্তি প্রশংসা কুড়িয়েছে সব মহলে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

লাকি আলীর কণ্ঠ কেবল একটি সুর নয়, বরং অনেকের কাছেই এটি শৈশব ও কৈশোরের সোনালী স্মৃতির নাম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তরা তাঁদের প্রিয় শিল্পীর জন্য ভালোবাসা ও প্রার্থনায় মুখর হয়ে উঠেছেন। কেউ কেউ আবেগাপ্লুত হয়ে লিখেছেন, তাঁর গানের সুরের সাথে জড়িয়ে আছে জীবনের প্রতিটি বাঁক। তাই এমন প্রিয় শিল্পীর মুখে মৃত্যুর কথা শুনতে অনেকেরই বুক কেঁপে উঠেছে। সংগীতপ্রেমীরা তাঁকে নিজের স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে দীর্ঘায়ু কামনা করছেন, যাতে আরও অনেক সুরের মায়াজালে তিনি শ্রোতাদের মুগ্ধ করতে পারেন।

কিংবদন্তি অভিনেতা মেহমুদের ঘরে জন্ম নেওয়া লাকি আলীর পথচলা কখনোই সাধারণ ছিল না। অভিনয় জগতের গ্ল্যামার ছেড়ে তিনি বেছে নিয়েছিলেন সুরের ব্যাকুলতা। নব্বইয়ের দশকে ‘ও সনম’ গানের মাধ্যমে সংগীত জগতে যে বিপ্লব তিনি ঘটিয়েছিলেন, তা আজও অম্লান। এরপর ‘এক পল কা জিনা’, ‘না তুম জানো না হাম’ কিংবা ‘সফরনামা’—প্রতিটি গানই যেন তাঁর স্বতন্ত্র সত্তার পরিচয়। বলিউডের বাণিজ্যিক আবহে থেকেও তিনি সবসময় নিজের স্বকীয়তাকে প্রাধান্য দিয়েছেন। এমনকি আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে কথা বলতে গিয়েও তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রযুক্তি কণ্ঠস্বর নকল করতে পারলেও শিল্পীর ভেতরের সেই আত্মা বা আবেগ কখনোই তৈরি করতে পারে না।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

সংগীতের পাশাপাশি জীবনকে এক অন্য উচ্চতায় দেখার এই প্রবণতাই লাকি আলীকে সাধারণ শিল্পীদের থেকে আলাদা করে রেখেছে। জীবনের অনেকটা সময় খামারে পশুপালন ও ঘোড়ার সাথে কাটানো এই শিল্পী আজ সুরের এক বিশাল মহীরূহ। তাঁর কণ্ঠে থাকা সেই চিরাচরিত সরলতা আর আত্মার টানই তাঁকে শ্রোতাদের হৃদয়ের অনেক গভীরে জায়গা করে দিয়েছে। ভক্তরা শুধু গান নয়, বরং মানুষ লাকি আলীর এই দার্শনিক সত্তাকেও সমান শ্রদ্ধা করেন। আজ যখন তিনি মৃত্যুর কথা বলেন, তখন সেই কথার মধ্যেও যেন এক অদ্ভুত প্রশান্তি আর অমোঘ সত্য মিশে থাকে, যা তাঁর গানের মতোই গভীর ও হৃদয়স্পর্শী।

0%
0%
0%
0%