AdvertisementAdvertisement

জাফর ইকবালের সঙ্গে প্রেমের স্মৃতি ও সেই সম্পর্কের অকথিত গল্প শোনালেন ববিতা

ঢাকাই সিনেমার সোনালী অধ্যায়ের এক অবিস্মরণীয় রোমান্টিক জুটি ববিতা ও জাফর ইকবাল। আশির দশকে রূপালি পর্দার গ্ল্যামার আর ফ্যাশন ট্রেন্ড সেট করা সুদর্শন নায়ক জাফর ইকবালের সঙ্গে ববিতার সম্পর্কের রসায়ন ছিল সেই সময়ের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। বরেণ্য এই অভিনেত্রী অকপটে স্বীকার করেছেন, কিশোর বয়সের সেই মুগ্ধতা আর প্রেম ছিল এক অনন্য আবেগ। তবে দীর্ঘদিনের পথচলায় দুজনের মাঝে গভীর ভালোবাসা ও বন্ধুত্বের সম্পর্ক থাকলেও, কখনোই বিয়ের মতো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতির কথা ভাবেননি তারা।

স্মৃতি হাতড়ে ববিতা জানান, ১৫-১৬ বছর বয়সেই অভিনয়ের সুবাদে ইকবালের সঙ্গে সখ্য গড়ে ওঠে। সেই সময়ের মোস্ট হ্যান্ডসাম এবং স্মার্ট নায়ক জাফর ইকবাল অভিনয়ের পাশাপাশি গিটার আর গানে মুগ্ধ করে রাখতেন সহশিল্পীদের। শুটিংয়ের অবসরে গিটার বাজিয়ে গান শেখাতেন ববিতাকে, যা তাদের সম্পর্ককে আরও নিবিড় করেছিল। ববিতার ভাষায়, জাফর ইকবাল ছিলেন সব গুণসমৃদ্ধ এক ‘কমপ্লিট প্যাকেজ’। সমসাময়িক অন্য নায়কদের চেয়ে সবদিক থেকেই ছিলেন অনেক বেশি স্টাইলিশ ও আধুনিক।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

জনপ্রিয় গান ‘সুখে থাকো ও আমার নন্দিনী’ নিয়ে প্রচলিত গুঞ্জনকে ভুল প্রমাণ করে ববিতা জানান, এটি তাদের ভাঙা প্রেমের ফসল ছিল না। জাফর ইকবাল নিজেই তাকে জানিয়েছিলেন, সুরকার আলাউদ্দিন আলী ও গীতিকার মনিরুজ্জামান মনিরের অনুরোধেই তিনি গানটি গেয়েছিলেন, যাতে শ্রোতারা মনে করেন ববিতার জন্যই এই সুর। ক্যারিয়ারের ব্যস্ততায় একসময় অন্য নায়িকাদের সঙ্গে কাজ শুরু করেন জাফর ইকবাল, ববিতাও ব্যস্ত হয়ে পড়েন রাজ্জাক, ফারুকসহ অন্যান্য সহশিল্পীদের সঙ্গে। তবুও বন্ধুত্ব বজায় ছিল আজীবন।

জাফর ইকবালের জীবন বিধ্বস্ত হওয়া বা ব্যক্তিগত অশান্তির কারণ হিসেবে ববিতার সঙ্গে বিচ্ছেদকে দায়ী করাকে সম্পূর্ণ ভুল বলে মনে করেন এই অভিনেত্রী। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, রাজ কাপুর-নার্গিস বা অমিতাভ-রেখার মতো শিল্পীদের সম্পর্কের মতোই তাদের সম্পর্কটিও ছিল ভালোবাসার, যা সবসময় বিয়ের আঙিনায় গড়ায় না। জাফর ইকবাল পরবর্তীতে বিয়ে করেছিলেন, এমনকি সেই সংসারও ভেঙে গিয়েছিল। ববিতার মতে, ইকবালের অগোছালো জীবনযাপন ও পরবর্তী অসুস্থতা ছিল একান্তই তার ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

জীবনের শেষ দিকে জাফর ইকবালের সঙ্গে শুটিংয়ে শেষবার দেখা হওয়া এক সিনেমার সেটেই, যেখানে চিত্রনাট্য অনুযায়ী ববিতা ছিলেন চিকিৎসকের চরিত্রে আর জাফর ইকবাল শুয়ে ছিলেন হাসপাতালের বিছানায়। হয়তো নিয়তির লিখন ছিল সেটিই। এরপর আর দেখা হয়নি প্রিয় সহকর্মীর সঙ্গে। জাফর ইকবালের নিথর দেহ যখন এফডিসিতে আনা হয়, সেই দিনই ছিল তাদের শেষ দেখা। সেই বিষাদময় স্মৃতিরোমন্থন করে ববিতা আজও অনুভব করেন, সেই মানুষটি ছিলেন রুপালি পর্দার এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, যার সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলো আজও চলচ্চিত্রের ইতিহাসের পাতায় রঙিন হয়ে আছে।

0%
0%
0%
0%