শৈশবের স্মৃতি রোমন্থনে আবেগাপ্লুত পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়

নস্টালজিয়ার রঙে নিজেকে রাঙিয়ে নিলেন টলিউডের প্রখ্যাত পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়। গত ৪ আগস্ট ছিল তার জন্মদিন। সেই বিশেষ দিনটির রেশ কাটতে না কাটতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শৈশবের একটি দুষ্প্রাপ্য ছবি শেয়ার করে ভক্তদের সাথে ভাগ করে নিলেন এক অমোঘ স্মৃতি। জন্মদিনে যারা তাকে ভালোবাসায় সিক্ত করেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি তিনি ফিরিয়ে আনলেন সেই সোনালি অতীত, যখন গড়িয়ার কানুনগো পার্ক থেকে তার মামা তাকে সাইকেলের রডে বসিয়ে নিয়ে যেতেন পদ্মশ্রী সিনেমা হলে।
সেই সময়ের স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে পরিচালক জানালেন, তৎকালীন সিনেমা হলগুলোর লবিতে আগামী সিনেমার যে পোস্টারগুলো সাজানো থাকত, ছোট্ট কৌশিকের কাছে সেগুলোই ছিল সিনেমার জগত। সেই ছবিগুলো দেখেই তার কল্পনার জগৎ বিস্তৃত হতো। এমনই কোনো এক সিনেমা দেখা শেষে বাড়ি ফেরার পথে মামার হাত ধরে ছবি স্টুডিওতে তোলা হয়েছিল শৈশবের এই মিষ্টি ছবিটি। হয়তো সেদিন কেউ ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেনি, এই খুদে বালকই একদিন বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম কান্ডারি হয়ে উঠবেন এবং সেই পদ্মশ্রী প্রেক্ষাগৃহেই একসময় প্রদর্শিত হবে তার নিজের পরিচালিত সিনেমা।
স্মৃতির দর্পণে বন্দি এই আবেগঘন মুহূর্তটি বর্তমানে কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের কর্মজীবনের সাফল্যের সাথে এক অদ্ভুত সমান্তরাল রেখা তৈরি করেছে। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে তার পরিচালিত ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’, যা দর্শকদের মাঝে বেশ সমাদৃত হয়েছে। পাশাপাশি, তার ছেলে উজান গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবি ‘কাতুকুতু বুড়ো’-ও এই মুহূর্তে বড় পর্দায় সফলভাবে চলছে। কাকতালীয়ভাবে, এই দুই ছবিতেই গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করে চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায় তার অনবদ্য অভিনয়ের স্বাক্ষর রেখেছেন। শৈশবের সেই স্বপ্নভরা চোখ থেকে আজকের এই সৃজনশীল উচ্চতায় পৌঁছে যাওয়া পরিচালক যেন এক রূপকথার বাস্তব চিত্রনাট্য লিখছেন।
