কারাবন্দী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে পাকিস্তানে পিটিআইয়ের দেশজুড়ে বিক্ষোভ

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কারাবাসের তিন বছর পূর্ণ হওয়ার দিনে তাঁর মুক্তি ও সাংবিধানিক অধিকার পুনরুদ্ধারের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ করেছেন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) হাজারো নেতাকর্মী। বুধবার কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেই দেশটির বিভিন্ন শহরে রাজপথে নেমে আসেন খানের সমর্থকরা। রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় বন্দি থাকা ৭৩ বছর বয়সী এই সাবেক প্রধানমন্ত্রীর নিঃশর্ত মুক্তি এবং তাঁর প্রতি অমানবিক আচরণের অবসান চেয়ে দলের পক্ষ থেকে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদন ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, ইমরান খানকে দীর্ঘ আট মাসেরও বেশি সময় ধরে তাঁর পরিবার এবং গত ডিসেম্বর থেকে আইনজীবীদের সাথে অর্থপূর্ণ যোগাযোগ থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাটি জানিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদী নির্জন কারাবাস, ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করা এবং পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধা না দেওয়া পাকিস্তানের কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। অ্যামনেস্টির দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক আঞ্চলিক পরিচালক ইসাবেল লাসি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, কারাবন্দি অবস্থায় ইমরান খানের ওপর চালানো এই নির্যাতন আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী অগ্রহণযোগ্য।
জাতিসংঘের দুটি পৃথক কমিটিও ইমরান খানের কারাবাসের পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। চলতি বছরের জুলাই মাসে জাতিসংঘের নির্বিচারে আটক বিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপ ইমরান খানের বন্দিদশাকে ‘মনগড়া’ হিসেবে উল্লেখ করে সতর্ক করেছে যে, তাঁর বর্তমান বয়সে এটি কার্যত যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সমান। এছাড়া জাতিসংঘের বিশেষ র্যাপোর্টার অ্যালিস জিল এডওয়ার্ডস জানিয়েছেন, ইমরান খানকে দিনে ২৩ ঘণ্টা নির্জন প্রকোষ্ঠে কড়া নজরদারিতে রাখা হয়েছে, যা নির্যাতনের শামিল। একইসঙ্গে তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবির কারাবাসের পরিবেশ নিয়েও গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর এসব অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, ইমরান খানের কারাবাসের বিষয়টি স্বাধীন বিচার বিভাগের তত্ত্বাবধানে রয়েছে এবং তাঁকে সাধারণ বন্দিদের তুলনায় বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। সরকারি ভাষ্যমতে, কোনো ব্যক্তির জন্য রাজনৈতিক সমঝোতা বা বিশেষ ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই এবং যেকোনো আইনি প্রতিকার কেবল বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সম্ভব।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইমরান খানকে প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনা করায় বর্তমান পরিস্থিতির সহসা পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। বিশ্লেষক আরিফ আনসার মনে করেন, সামরিক বাহিনীর কৌশলী অবস্থানের ওপরই ইমরান খানের মুক্তি ও দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যতের গতিপথ অনেকটা নির্ভর করছে। অন্যদিকে পিটিআইয়ের আইনজীবী আবুজার সালমান নিয়াজি অভিযোগ করেছেন যে, বিচার বিভাগ এখন আর নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারছে না, যা ইমরান খানের মুক্তি পাওয়ার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
