AdvertisementAdvertisement

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লালার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আলফ্রেডো গাসপারকে বেছে নিলেন ফ্লাভিও বলসোনারো

ব্রাজিলের আগামী অক্টোবরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য রক্ষণশীল দলীয় কংগ্রেসম্যান আলফ্রেডো গ্যাসপারকে নিজের রানিং মেট হিসেবে ঘোষণা করেছেন সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো। বুধবার এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটল। ৫৫ বছর বয়সী গ্যাসপার ব্রাজিলের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় আলাগোয়াস রাজ্যের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং অতীতে এই অঞ্চলের জননিরাপত্তা সচিব হিসেবেও কাজ করেছেন।

নিজের মনোনয়ন গ্রহণের পর গ্যাসপার নিজেকে কঠোর পরিশ্রমী ও সৎ একজন মানুষ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি লুলার প্রতিদ্বন্দ্বী বলসোনারোর পাশে দাঁড়িয়ে ব্রাজিলকে একটি ন্যায্য ও মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্রে রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ন্যাশনাল সোশ্যাল সিকিউরিটি ইনস্টিটিউটের পেনশন জালিয়াতির তদন্তে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা গ্যাসপারকে লুলার বিরুদ্ধে সুবিধাজনক অবস্থানে রাখবে, কারণ খোদ প্রেসিডেন্টের পুত্রের বিরুদ্ধেই এই ইস্যুতে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

বলসোনারোর নির্বাচনী প্রচারণা বর্তমানে বেশ কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। নিজস্ব লিবারেল পার্টির বাইরে অন্য কোনো দলের সমর্থন আদায়ে ব্যর্থ হওয়ার পাশাপাশি নারী ভোটারদের আকৃষ্ট করার জন্য কোনো নারী নেত্রীকে প্রার্থী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার প্রচেষ্টাও ভেস্তে গেছে। এর আগে তেরেসা ক্রিস্টিনা এবং ড্যানিয়েলা মার্কেসের মতো হাই-প্রোফাইল ব্যক্তিদের দলে ভেড়ানোর চেষ্টা করলেও তা সফল হয়নি। ফলে বলসোনারোর জোট সম্প্রসারণের প্রচেষ্টা অনেকটা সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

কুয়েস্টের সাম্প্রতিক জনমত জরিপ অনুযায়ী, লুলার জনপ্রিয়তায় কিছুটা ভাটা পড়লেও তিনি বলসোনারোর চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। লুলার ৪৪ শতাংশ সমর্থনের বিপরীতে বলসোনারোর সমর্থন ৩৯ শতাংশ। প্রথম দফার নির্বাচনে কোনো প্রার্থী ৫০ শতাংশের বেশি ভোট নিশ্চিত করতে না পারলে শীর্ষ দুই প্রার্থীর মধ্যে চূড়ান্ত লড়াই হবে। এমন পরিস্থিতিতে লুলার প্রচারণা দলটি নির্বাচনকে ব্রাজিলের সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াই হিসেবে চিহ্নিত করছে।

প্রেসিডেন্ট লুলা তার নির্বাচনী প্রচারণায় বিদেশিদের অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে জোরালো হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, ব্রাজিলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বাইরে থেকে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং সার্বভৌমত্ব খর্বের অপচেষ্টা চলছে। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কূটনৈতিক উত্তেজনার বিষয়টি সামনে এনে তিনি দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। লুলার স্পষ্ট বক্তব্য, যতদিন তিনি ক্ষমতায় আছেন, ততদিন ব্রাজিলের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনো বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ তিনি মেনে নেবেন না।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%