জেফ্রি এপস্টাইন কাণ্ডে নথি গোপন করায় মার্কিন বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে নিউ মেক্সিকোর মামলা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের জফ্রি এপস্টাইন সংশ্লিষ্ট অপরাধের তদন্ত বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগে দেশটির বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন অঙ্গরাজ্যটির অ্যাটর্নি জেনারেল রাউল টরেস। ওয়াশিংটন ডিসির ডিস্ট্রিক্ট আদালতে দায়ের করা এই মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে যে, ফেডারেল কর্তৃপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র গোপন রেখে তদন্তকাজে অসহযোগিতা করছে। এপস্টাইনের নিউ মেক্সিকোর সম্পত্তি ‘জোরো র্যাঞ্চ’-এ সংঘটিত যৌন নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য উদঘাটনে এই নথিপত্রগুলো অপরিহার্য বলে দাবি করেছেন টরেস।
নিউ মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেল অভিযোগ করেছেন, বছরের পর বছর ধরে আশ্বাস দেওয়ার পরও বিচার বিভাগ তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। টরেসের ভাষ্যমতে, কেন্দ্রীয় সরকারের এই গড়িমসি এপস্টাইন কাণ্ডের বেঁচে যাওয়া ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার প্রাপ্তির পথকে দীর্ঘায়িত করছে এবং রাষ্ট্রীয় তদন্তকে স্থবির করে দিয়েছে। অন্যদিকে, বিচার বিভাগ সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘন করে কোনোভাবেই তাদের কাছে থাকা নথিপত্র আনরেড্যাক্টেড বা অবিকৃত অবস্থায় হস্তান্তর করা সম্ভব নয়। ফেডারেল কর্তৃপক্ষের দাবি, এমনটি করা হলে তা বিদ্যমান কেন্দ্রীয় আইনের সরাসরি লঙ্ঘন হবে।
যৌন অপরাধী হিসেবে পরিচিত ধনকুবের জফ্রি এপস্টাইন ১৯৯৩ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত নিউ মেক্সিকোতে বিশাল এই ‘জোরো র্যাঞ্চ’-এর মালিক ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে যে, সেখানেই তিনি এক বিশাল মানব পাচার চক্র পরিচালনা করতেন, যার শিকার হয়েছে অসংখ্য নারী ও কিশোরী। ২০১৯ সালে এপস্টাইনের মৃত্যুর পর ওই র্যাঞ্চটি নিয়ে ব্যাপক জনরোষ সৃষ্টি হয় এবং পরবর্তীতে ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে এটি ব্যক্তিগত মালিকানায় বিক্রি হয়ে যায়। টরেসের অভিযোগ, ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো কখনোই ওই র্যাঞ্চে যথাযথ তল্লাশি চালায়নি কিংবা অপরাধের আলামত সংগ্রহের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি।
বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সাথে ডেমোক্র্যাটিক দলের নেতা টরেসের বিরোধ এই আইনি লড়াইকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এপস্টাইন সংক্রান্ত ষড়যন্ত্র তত্ত্বের সাথে যুক্ত থাকায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এর আগে ‘এপস্টাইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট’ অনুযায়ী বিচার বিভাগকে নথিপত্র প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হলেও, সংসদ সদস্যদের অভিযোগ—প্রকাশিত নথিপত্র অসম্পূর্ণ এবং উদ্দেশ্যমূলকভাবে অনেক তথ্য গোপন করা হয়েছে।
ফেব্রুয়ারি মাসে নিউ মেক্সিকো কর্তৃপক্ষ জোরো র্যাঞ্চ নিয়ে পুনরায় তদন্ত শুরু করে। সরকারি তথ্যানুযায়ী, প্রকাশিত নথিপত্রে এই র্যাঞ্চটির নাম ১৩ হাজারের বেশিবার এবং নিউ মেক্সিকোর বিভিন্ন স্থানের নাম প্রায় ৫ হাজার বার উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে ভুক্তভোগীদের পাচার, প্রলুব্ধ এবং যৌন নির্যাতন করা হয়েছিল। এমন অকাট্য তথ্য থাকা সত্ত্বেও ফেডারেল কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতাকে ‘আমলাতান্ত্রিক অবাধ্যতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন টরেস। মামলার আইনি নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ফেডারেল সরকারের এই নিষ্ক্রিয়তা শুধুমাত্র তদন্তই ব্যাহত করছে না, বরং ভুক্তভোগীদের মানসিক যন্ত্রণাকেও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
