বিতর্কের আবর্তে নেটফ্লিক্সের লক আপ দ্বিতীয় মৌসুমের অভাবনীয় জনপ্রিয়তা

রিয়েলিটি শোর গ্ল্যামার আর বিতর্কের মিশেলে নেটফ্লিক্সের পর্দায় রীতিমতো ঝড় তুলেছে ‘লক আপ: সাচ ইয়া সাজা’। বিনোদনের দুনিয়ায় এই অনুষ্ঠানটি এখন কেবল একটি টেলিভিশন শো নয়, বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে কফিশপের আড্ডায় অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয়বস্তু। কোটি কোটি ঘণ্টা ভিউ আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আড়াইশ কোটিরও বেশি ইন্টারঅ্যাকশন প্রমাণ করে, দর্শকদের প্রবল চাহিদার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একতা কাপুরের এই আলোচিত ‘ক্যাপটিভ রিয়েলিটি’ শো।
অনুষ্ঠানটির জনপ্রিয়তা যতটা না প্রতিযোগীদের লড়াই নিয়ে, তার চেয়ে বেশি চর্চিত হচ্ছে তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক, অশালীন মন্তব্য এবং অস্বস্তিকর সব মুহূর্ত নিয়ে। বিশেষ করে অভিনেতা রাম কাপুরকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিতর্ক শো-টির পারদ চড়িয়েছে বহুদূর। সহ-প্রতিযোগীর গালে চুমু খাওয়ার দৃশ্য ভাইরাল হওয়ার পর শুরু হয় তুমুল সমালোচনা। অনেকেই একে টিআরপি বাড়ানোর সস্তা কৌশল হিসেবে দাগিয়ে দিয়েছেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, সহ-প্রতিযোগী শ্রেয়া কালরা পর্যন্ত বলতে বাধ্য হন যে, তার বাবাও তাকে এমনভাবে চুমু দেন না। শো-এর অন্দরমহলের এই অস্বস্তি ছাপিয়ে পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাতের পর্বে স্ত্রী গৌতমী কাপুরের ক্ষমা চাওয়ার দৃশ্যটি দর্শকদের কাছে ছিল নাটকীয়তার চরম শিখর।
‘লক আপ’-এর এই ফর্মুলা নতুন নয়, তবে অত্যন্ত নিখুঁত। বিগ বসের মতো জনপ্রিয় রিয়েলিটি শোর আদলে এখানেও ক্যামেরার সামনে গড়ে ওঠা প্রেমের সম্পর্ক বা ‘শোম্যান্স’ নিয়ে দর্শকদের মধ্যে দ্বিধাবিভক্ত মত রয়েছে। কেউ একে বাস্তব আবেগ মনে করে আবেগে ভাসছেন, আবার কেউ কেউ একে নির্মাতাদের পূর্বপরিকল্পিত নাটক বলে অভিহিত করছেন। উত্তপ্ত তর্কের সময় প্রতিযোগীদের ব্যক্তিগত আক্রমণ, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কটাক্ষ কিংবা অতীত জীবনের গোপন কথা প্রকাশ—সব মিলিয়ে শো-টি বিতর্ককে পুঁজি করেই এগিয়ে চলেছে।
নির্মাতা একতা কাপুরের মতে, এই শো-এর আসল শক্তি হলো তারকাদের মুখোশ খুলে ফেলা। এখানে তারকারা তাদের ব্যর্থতা, মানসিক আঘাত ও গোপন জীবনের গল্পগুলো যেভাবে তুলে ধরেন, তা সচরাচর দেখা যায় না। উপস্থাপক ফারাহ খান ও রিতেশ দেশমুখও দক্ষতার সাথে প্রতিটি বিতর্ককে পরবর্তী পর্বের মূল আকর্ষণে রূপান্তর করেছেন। দর্শকরা এখন তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে বিশ্লেষণ করছেন—কে এখানে সত্যি বলছেন আর কে কেবল ক্যামেরার সামনে অভিনয়ের জাল বুনছেন।
নেটফ্লিক্স ইন্ডিয়ার কনটেন্ট প্রধান মনিকা শেরগিল জানিয়েছেন, সাফল্যের এই ধারা বজায় রেখে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে আন্তর্জাতিক রিয়েলিটি ফরম্যাট নিয়ে আসার পরিকল্পনা করছে তারা। যদিও ‘লক আপ’-এর পরবর্তী সিজন নিয়ে এখনই কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবে নেটফ্লিক্সের অভ্যন্তরীণ মহলে এই ফরম্যাটের দীর্ঘ ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রবল আগ্রহ রয়েছে। প্রতিযোগিতার মোড়ক থেকে বেরিয়ে বিতর্ক আর বাস্তবতার মিশেলে ‘লক আপ’ এখন ভারতীয় বিনোদনের মানচিত্রে এক নতুন মাইলফলক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
