৬৯তম গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডস থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিল বিটিএস

বিশ্ব সংগীতের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চ গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডস থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার অভাবনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্বখ্যাত কে-পপ ব্যান্ড বিটিএস। সংগীতপ্রেমীদের চমকে দিয়ে ব্যান্ডটির সাত সদস্য আর এম, জিন, সুগা, জে-হোপ, জিমিন, ভি ও জাংকুক যৌথভাবে ঘোষণা করেছেন যে, ৬৯তম গ্র্যামি আসরের জন্য তারা কোনো গান জমা দিচ্ছেন না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছেন, সংগীত যেন কোনো নির্দিষ্ট ভাষা বা ভৌগোলিক সীমানায় আটকে না থাকে, বরং তার নিজস্ব শৈল্পিক মহিমায় মূল্যায়িত হয়, সেটিই তাদের একান্ত প্রত্যাশা।

বিজ্ঞাপন

বিটিএসের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে বিশ্বজুড়ে থাকা ‘আর্মি’ ভক্তদের মধ্যে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। দশকের পর দশক ধরে গ্র্যামির মূলধারার স্বীকৃতি পাওয়ার প্রত্যাশায় থাকা এই গ্রুপটির এমন সিদ্ধান্তে সংগীতবোদ্ধাদের একটি বড় অংশ বেশ বিস্মিত। বিশেষ করে মার্চ মাসে প্রকাশিত তাদের ‘আরিরাং’ অ্যালবামটির আকাশচুম্বী সাফল্যের পর ভক্তদের প্রত্যাশা ছিল তুঙ্গে। অনেকেই ধারণা করেছিলেন, এবার হয়তো কাঙ্ক্ষিত সেই সোনালী গ্রামোফোন ট্রফিটি বিটিএসের হাতেই উঠবে।

এদিকে, গ্র্যামির আয়োজক প্রতিষ্ঠান রেকর্ডিং একাডেমি সম্প্রতি ২০২৭ সালের আসর থেকে ‘বেস্ট এশিয়ান পপ মিউজিক পারফরম্যান্স’ নামে একটি নতুন বিভাগ চালুর ঘোষণা দিয়েছে। এশীয় সংগীতের উৎকর্ষতাকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার এই উদ্যোগকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ কোরিয়ার সংগীতাঙ্গনে শুরু হয়েছে প্রবল বিতর্ক। একাডেমি বলছে, এর মাধ্যমে কে-পপ, জে-পপ এবং সি-পপের মতো ধারাগুলো বিশেষ স্বীকৃতি পাবে।

তবে সমালোচকদের একাংশ মনে করছেন, এই নতুন বিভাগটি আদতে এশীয় শিল্পীদের মূলধারার প্রতিযোগিতা থেকে আলাদা করে ফেলার একটি সুকৌশলী প্রয়াস। বিটিএস অতীতে একাধিকবার গ্র্যামি মনোনয়ন পেলেও জয় অধরা থেকে গেছে। নতুন এই বিভাগের ঘোষণার ঠিক এক মাস পরেই বিটিএসের এমন রক্ষণাত্মক ও তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত সংগীত জগতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, গ্র্যামির এই নতুন সিদ্ধান্তের সাথে তাল না মিলিয়ে বিটিএস হয়তো তাদের স্বতন্ত্র ও বিশ্বজনীন অবস্থানের জানান দিতেই এই কঠিন পথে হেঁটেছে।

বিজ্ঞাপন
0%
0%
0%
0%