কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে আটক ১৯ বছর বয়সী তুহিন হোসেনের বিরুদ্ধে এর আগেও বন্ধুর মোটরসাইকেল আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ রয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে গত শনিবার বিকেলে তাকে আটকের পর পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এই তথ্য সামনে আসে। আটক তুহিন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন সানন্দা এলাকার নুরুল আলমের ছেলে এবং কুমিল্লা গভমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুলের শিক্ষার্থী ছিলেন।
নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি আসাদুল্লাহ সোহাগ নামের এক যুবকের মোটরসাইকেল নিয়ে ফেরত না দেওয়ার অভিযোগে তুহিনের বিরুদ্ধে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন ভুক্তভোগীর মা মরিয়ম আক্তার। ওই বছরের ২৬ এপ্রিল রাতে সালমানপুর এলাকা থেকে সোহাগের প্রায় দুই লাখ পাঁচ হাজার টাকা মূল্যের মোটরসাইকেলটি কৌশলে নিয়ে যান তুহিন। পূর্বপরিচিত হওয়ায় সোহাগ তার কথামতো বিশ্বাস করে গাড়িটি দিয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে আর ফেরত পাননি।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, খোয়া যাওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধারের জন্য সদর দক্ষিণ থানায় গেলেও পুলিশ সেই সময় কোনো মামলা গ্রহণ করেনি এবং কেবল সাধারণ ডায়েরি বা জিডি নথিভুক্ত করে। উল্টো তৎকালীন উপপরিদর্শক আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে দুই দফায় ৩০ হাজার টাকা উৎকোচ নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ তোলে পরিবার। টাকা নিয়েও পুলিশ সেই মোটরসাইকেল উদ্ধার করতে পারেনি। সে সময় তুহিন রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না বলেও পরিবারকে জানানো হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব পুলিশি অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা সদর দক্ষিণ মডেল থানার কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের মর্মান্তিক ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সোহাগ। তার দাবি, তুহিন তাকেও একইভাবে ডেকে নিয়ে কৌশলে মোটরসাইকেল হাতিয়ে নিয়েছিল এবং জিডি করার পরও পুলিশ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। ছোট অপরাধের যথাসময়ে বিচার না হওয়ার কারণেই অপরাধীরা ভবিষ্যতে এমন বড় ও নৃশংস অপরাধ সংঘটিত করার সাহস অর্জন করে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে আগের মোটরসাইকেল আত্মসাতের ঘটনার সাথে বর্তমানের অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের কোনো প্রত্যক্ষ যোগসূত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানা যায়নি। অপ্রতিম হত্যা মামলায় মূল অভিযুক্ত তুহিন ছাড়াও সন্দেহভাজন হিসেবে আনাস এবং ফাহিম আহমেদ নামের আরও দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবার।