ভোলা সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের মাছঘাট এলাকার মেঘনা নদীর তীর ধসে নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবি সদস্যসহ দুই যুবকের কোনো সন্ধান মেলেনি। গত বুধবার সন্ধ্যায় নদীর তীরে আড্ডা দেওয়ার সময় তীর ধসে পড়ার এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ দুই বন্ধু হলেন ভোলা পৌরসভার কালিবাড়ি রোড এলাকার ইব্রাহিমের ছেলে বিজিবি সদস্য মো. আমজাদ এবং ভোলা সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের শান্তিরহাট বাজার এলাকার বাবুলের ছেলে মো. রাকিব।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় পাঁচ বন্ধু মেঘনা নদীর তীরে অবস্থিত গরিবের দুবাই নামক স্থানে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। হঠাৎ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নদীতীর রক্ষায় বসানো জিও ব্যাগসহ তীরের একটি অংশ ধসে নদীতে বিলীন হয়ে যায় এবং পাঁচজনই খরস্রোতা মেঘনায় পড়ে যান। তাদের মধ্যে তিনজন সাঁতরে কূলে উঠতে সক্ষম হলেও বিজিবি সদস্য আমজাদ ও তাঁর বন্ধু রাকিব নদীর পানিতে তলিয়ে নিখোঁজ হন।
নিখোঁজদের উদ্ধারে স্থানীয় লোকজনের পাশাপাশি পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং বরিশাল থেকে আসা বিশেষ ডুবুরি দল যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে। গতকাল বুধবার গভীর রাত পর্যন্ত তল্লাশি চালিয়েও তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি, যা আজ বৃহস্পতিবার ভোররাত থেকেও অব্যাহত রয়েছে। এদিকে উদ্ধার অভিযানে কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত সহযোগিতা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ তুলেছেন নিখোঁজ আমজাদের চাচা হাফেজ মাওলানা ইয়াকুব।
সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে নদীর তীরে উপস্থিত নিখোঁজ যুবকদের স্বজনদের বুকফাটা আর্তনাদ ও কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। আমজাদের মা ছেলের প্রতীক্ষায় বারবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন এবং স্বজনেরা দ্রুত তাদের সন্ধানসহ এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী বিষয়গুলোর সুনির্দিষ্ট তদন্ত দাবি করেছেন।
ভোলার ইলিশা নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ আশিকুর রহমান জানিয়েছেন, নিখোঁজ দুইজনকে উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত তাদের কোনো খোঁজ মিলেনি এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।