বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় পৃথক তিনটি আকস্মিক দুর্ঘটনায় পানিতে ডুবে এক শিশু, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক বৃদ্ধ এবং সড়ক পারাপারের সময় অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার দুপুরের দিকে উপজেলার বড়াকোঠা, শিকারপুর ও ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক এলাকায় এসব হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে গভীর চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুরে বড়াকোঠা ইউনিয়নের নারকেলী গ্রামে পলাশ খানের ছয় বছরের শিশুপুত্র আসওয়াদ খান বাড়ির পাশে খেলার ছলে সবার অজান্তে পুকুরে পড়ে যায়। দীর্ঘ সময় তাকে দেখতে না পেয়ে পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে স্থানীয়দের সহায়তায় পুকুর থেকে তাকে উদ্ধার করে উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এদিকে একই সময়ে শিকারপুর ইউনিয়নের পূর্ব জয়শ্রী গ্রামে নিজ বাড়ির পাশের একটি কাঁঠালগাছে পাতা কাটতে ওঠেন ৬৫ বছর বয়সী মো. শাহজাহান বিশ্বাস। গাছের ওপর দিয়ে যাওয়া অরক্ষিত বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে তিনি আকস্মিক বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকেও মৃত বলে ঘোষণা করেন। নিহত শাহজাহান বিশ্বাস স্থানীয় ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য শিহাব বিশ্বাসের পিতা।
অপরদিকে, বুধবার দুপুরে ব্যস্ততম ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের উজিরপুর উপজেলার এমএ জলিল সেতুর ঢালে সড়ক পারাপারের সময় বেপরোয়া গতির একটি অজ্ঞাত যানের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই এক নারীর মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায়ও তার নাম ও পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
উজিরপুর মডেল থানার পুলিশ জানিয়েছে, সংঘটিত এসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় থানায় পৃথক পৃথক অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের মরদেহ পরিবারের নিকট হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হয়েছে।