চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপ উপজেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাদকবিরোধী একটি পোস্টে মন্তব্য করার জেরে ইসমাঈল হোসেন নামের এক পুলিশ কনস্টেবলকে পিটিয়ে জখম, অপহরণ ও চাঁদা দাবির ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি মো. করিমকে গভীর রাতে গ্রেপ্তার করেছে সন্দ্বীপ থানা পুলিশ।
রোববার উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের পণ্ডিতের হাট এলাকা থেকে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৩৩ বছর বয়সী ওই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। স্পেশাল পুলিশ ব্যাটালিয়নে কর্মরত আহত কনস্টেবল ইসমাঈল ছুটিতে নিজ বাড়িতে অবস্থান করছিলেন এবং ঘটনার রাতে পণ্ডিতের হাটের একটি সাইকেল মেরামতের দোকানে গেলে সংঘবদ্ধ চক্রটি তার ওপর চড়াও হয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, করিমসহ ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল তাকে ঘিরে ধরে বেধড়ক মারধর করে স্থানীয় একটি নির্জন সড়কে তুলে নিয়ে যায় এবং জিম্মি করে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। পরবর্তীতে তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায় এবং পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মুছাপুর ইউনিয়নের একটি নির্জন এলাকাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে একটি অপরাধ চক্র রাজত্ব চালিয়ে আসছে এবং সাধারণ মানুষকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোসহ ব্ল্যাকমেইল করে মুক্তিপণ আদায় তাদের নিয়মিত পেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাছাড়া গ্রেপ্তারকৃত করিমের বিরুদ্ধে গত বছর এক সাংবাদিককে তুলে নিয়ে মারধর ও অর্থ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে থানায় মামলা রয়েছে।
সন্দ্বীপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুজন হালদার জানান, ভুক্তভোগী পুলিশ সদস্যের দায়ের করা মামলায় প্রধান আসামিকে ইতোমধ্যে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং বাকি জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীর পরিবার।