Advertisement

গ্যাসের তীব্র সংকটে বন্ধ রপ্তানিমুখী সিরামিক কারখানা সংকটে হাজারো ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা

দেশের সিরামিক শিল্পে অর্জিত সুনাম এবং রপ্তানি বাণিজ্যের উজ্জ্বল সম্ভাবনা এখন চরম সংকটের মুখে। দীর্ঘ ২২ বছরের পরিশ্রমে তিলে তিলে গড়ে তোলা একটি সিরামিক প্রতিষ্ঠান গ্যাসের তীব্র সংকটের কারণে অকালে বন্ধ হয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। গত জুন মাসে চীন থেকে প্রায় দুই বছরের একটি বড় রপ্তানি আদেশের বিপরীতে উৎপাদন অব্যাহত রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ায় উদ্যোক্তারা এখন গভীর অনিশ্চয়তায় দিনাতিপাত করছেন।

প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৬০০ পিস পণ্য উৎপাদনকারী এই কারখানাটিতে পণ্য পোড়ানোর জন্য গ্যাসের চাপ তলানিতে ঠেকেছে। সংকট নিরসনে উদ্যোক্তা প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয় করে সিএনজি ব্যবহারের বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তুললেও গত ছয় মাস ধরে গ্যাস পাম্পে প্রেশার সংকটের কারণে তা অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ১ লাখ টাকা অগ্রিম প্রদানের পরও প্রয়োজনীয় গ্যাসের সরবরাহ না পাওয়ায় কারখানার ফায়ারিং প্রক্রিয়া কার্যত থমকে গেছে।

বিজ্ঞাপন

আয় শূন্য হওয়ার পরেও ব্যাংকের ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে গিয়ে উদ্যোক্তা তার সঞ্চয় নিঃশেষ করেছেন এবং দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ ১৩ জন কর্মচারীকে ছাঁটাই করতে বাধ্য হয়েছেন। বর্তমানে নতুন করে বিনিয়োগ করার মতো আর্থিক সক্ষমতা নেই বললেই চলে। অথচ ছোট ও মাঝারি শিল্পের এই মেরুদণ্ড ভেঙে পড়লে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়া অনিবার্য।

বিজ্ঞাপন

কর্তৃপক্ষ এলপিজিতে স্থানান্তরের পরামর্শ দিলেও একটি ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানের পক্ষে আকস্মিকভাবে ২০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করা দুরূহ। এমতাবস্থায় ব্যাংক ঋণের কিস্তি স্থগিত বা বিশেষ তহবিল সহায়তার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী উদ্যোক্তারা। বিদেশের বাজারে পণ্যের চাহিদা থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন বন্ধ হওয়া দেশীয় শিল্পের জন্য একটি বড় ধরনের অশনিসংকেত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

0%
0%
0%
0%