জাজিরায় ১,২০২ কোটি টাকার তীররক্ষা প্রকল্পেও নতুন ভাঙন, ঝুঁকিতে ৩০০ পরিবার

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় পদ্মা নদীর ভাঙন আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে। ১ হাজার ২০২ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন তীররক্ষা প্রকল্প চলমান থাকলেও গত সাত দিনে প্রায় ২০০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
ভাঙনের মুখে পড়ে ২৫টি পরিবার বসতবাড়ি সরিয়ে নিয়েছে। ঝুঁকিতে রয়েছে আরও প্রায় ৩০০ পরিবারের ঘরবাড়ি। পালেরচর ইউনিয়নের কাথুরিয়া, ফরাজীকান্দি এবং নাওডোবা ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকায় সাতটি দোকান নদীতে বিলীন হয়েছে। কাথুরিয়া-মাঝিরঘাট সড়কের প্রায় ৫০ মিটার অংশ ভেঙে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। বিদ্যুতের তিনটি খুঁটি নদীতে পড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহও ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জিওব্যাগ তলিয়ে যাওয়া ও নদীতীরে বড় ফাটল দেখা দেওয়ার পর দ্রুত ভাঙন শুরু হয়। আতঙ্কে মানুষ ঘরবাড়ি ও মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন।
পালেরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হোসেন ফরাজি বলেন, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পের কাজ চললেও ভাঙন থামছে না। প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো গাফিলতি আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, প্রকল্পের প্রায় ৫৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ভাঙন দেখা দেওয়া এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলা হচ্ছে।
শরীয়তপুর পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামান বলেন, প্রকল্পের ১২ নম্বর প্যাকেজ এলাকায় আকস্মিক ভাঙন শুরু হলেও দ্রুত জিওব্যাগ ডাম্পিং করায় বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি জানান, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে ভাঙনের ঝুঁকি বেশি থাকায় সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে।
