আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থায় ঝুলে থাকা অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির আহ্বান জানাল বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার ২৬ ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশের বিরুদ্ধে গত সাত বছরেরও বেশি সময় ধরে চলমান অভিযোগটি দ্রুত নিষ্পত্তির আনুষ্ঠানিক দাবি জানিয়েছে সরকার। রোববার সচিবালয়ে সফররত আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার মহাপরিচালক গিলবার্ট হোংবোর সঙ্গে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এ আহ্বান জানানো হয়। ২০১৯ সালের জুন মাসে আন্তর্জাতিক ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশনের অন্তর্ভুক্ত প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে ট্রেড ইউনিয়নের স্বাধীনতা খর্ব, শ্রমিকনেতাদের হয়রানি এবং মৌলিক শ্রমমান বাস্তবায়নে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলেছিলেন।
বৈঠকে শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব মো. আবদুর রহমান তরফদার এবং বাংলাদেশে আইএলওর কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুননসহ উভয় পক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানান, শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক শ্রমমান নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ শ্রম আইন সংশোধনসহ বিভিন্ন সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে এবং এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে আইএলওর ১০টি মৌলিক কনভেনশন অনুসমর্থন করেছে।
শ্রম মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে শ্রম বিধিমালা ২০১৫ সংশোধন, ত্রিপক্ষীয় জাতীয় সামাজিক সংলাপ ফোরাম গঠন এবং বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মতো আধুনিক ব্যবস্থা চালুর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের জন্য কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনাজনিত সুরক্ষা কর্মসূচি জাতীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী দাবি করেন, এসব সংস্কারের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে করা দীর্ঘস্থায়ী অভিযোগটি এখন নিষ্পত্তি করা যৌক্তিক।
আইএলওর মহাপরিচালক গিলবার্ট হোংবো বাংলাদেশের শ্রম খাতে সাম্প্রতিক সংস্কার উদ্যোগ এবং নতুন শ্রম আইন প্রণয়নের প্রশংসা করেছেন। তিনি ইপিজেডসহ সকল কর্মক্ষেত্রে সংগঠনের স্বাধীনতা ও শ্রম অধিকার নিশ্চিত করতে আইএলওর কারিগরি সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন। আগামী অক্টোবরে একটি যৌথ মিশন পরিচালনার প্রস্তাবনাও এসেছে বৈঠকে, তবে চলমান অভিযোগটি নিষ্পত্তির বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে কি না, তা নিয়ে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
