AdvertisementAdvertisement

টেকনাফে রোহিঙ্গা বহনকারী নৌকাডুবিতে ১৮ জন উদ্ধার, নিখোঁজ সাত

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহপরীরদ্বীপ উপকূলে বঙ্গোপসাগরের উত্তাল ঢেউয়ে রোহিঙ্গা বোঝাই একটি ইঞ্জিনচালিত কাঠের নৌকা ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সকাল ছয়টার দিকে সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীরদ্বীপ পশ্চিমপাড়া নৌঘাট থেকে দেড় কিলোমিটার অদূরে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। এতে ১৮ জন রোহিঙ্গা জীবিত উদ্ধার হলেও এখনো অন্তত সাতজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় জেলেরা দুটি মাছ ধরার ট্রলার নিয়ে দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। তারা সাগর থেকে ১৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করে নিরাপদে তীরে নিয়ে আসেন। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে চারজন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কমিউনিটি নেতা বা মাঝি রয়েছেন এবং বাকি ১৪ জন উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরের বাসিন্দা। জীবিত উদ্ধার হওয়া এই ব্যক্তিদের মধ্যে উখিয়ার বালুখালী, জামতলী এবং টেকনাফের জাদিমুড়া ও শালবাগান ক্যাম্পের নুর আলম, জাহেদ হোসেন, সৈয়দ নুর ও নুর কামালের নাম পাওয়া গেছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

উদ্ধারকৃত সবাইকে প্রাথমিকভাবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে তাদের টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসকরা জানান, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। চিকিৎসা শেষে তাদের আইনানুগ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নৌকাটিতে মোট ২৭ জন আরোহী ছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের অনেকে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে বিভিন্ন সশস্ত্র সংঘাতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সম্প্রতি খাদ্যসংকটের কারণে নাফ নদ হয়ে পুনরায় বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা নিখোঁজদের সন্ধানে তৎপরতা বৃদ্ধি এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন
0%
0%
0%
0%