জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে প্রশাসনিক সংস্কারের ওপর জোর দিলেন পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্র

পাকিস্তানের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেবল সামরিক শক্তিই যথেষ্ট নয়, বরং এর জন্য কার্যকর সুশাসন অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক কাঠামোর সংকট নিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য তুলে ধরেন।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী স্পষ্ট করেন যে, প্রশাসনিক কাঠামোয় আমূল সংস্কার ছাড়া পাকিস্তানের বহুদিনের জমে থাকা সমস্যাগুলোর সমাধান প্রায় অসম্ভব। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭২ সালে পাকিস্তানের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৭ থেকে ৮ কোটি, যা বর্তমানে বেড়ে প্রায় ২৫ কোটিতে দাঁড়িয়েছে। অথচ এত বড় জনসংখ্যার বোঝা সামলানোর জন্য প্রশাসনিক কাঠামোয় তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসেনি। চার গুণ বেশি জনসংখ্যা নিয়ে সেই পুরনো চারটি প্রদেশ দিয়েই প্রশাসনিক কার্যক্রম চালানো কতটা যুক্তিসঙ্গত, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।
সামরিক এই কর্মকর্তা জোর দিয়ে বলেন, যদি দেশের রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম ও জনসেবা উন্নত করার স্বার্থে কোনো কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়, তবে তা সংবিধানের গণ্ডির ভেতরে থেকেই করা উচিত। তিনি জানান, বিদ্যমান শাসনব্যবস্থায় জনগণ সন্তুষ্ট কি না, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জনমতের ভিত্তিতেই পরবর্তী প্রশাসনিক রূপরেখা নির্ধারণ করা সমীচীন। সংবিধানই রাষ্ট্রের সব সমস্যা সমাধানের সঠিক পথ প্রদর্শন করে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
এদিকে, পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভিও সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রশাসনিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি মনে করেন, জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং রাষ্ট্রের ভিত্তি শক্তিশালী করার জন্য রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।
সামগ্রিকভাবে, নিরাপত্তা পরিস্থিতির পাশাপাশি বালুচিস্তানের পরিস্থিতি ও সন্ত্রাসবাদ বিরোধী অভিযানের প্রেক্ষাপটে সামরিক এই মুখপাত্র ও সরকারের নীতিনির্ধারকদের বক্তব্য স্পষ্ট যে, পাকিস্তানের স্থিতিশীলতা এখন উন্নত প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার যথাযথ বাস্তবায়নের ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল।
তথ্যসূত্র: দুনিয়া নিউজ
