সব্যসাচী দত্তের বাড়িতে ইডির তল্লাশি, ১১টি ঠিকানায় একযোগে অভিযান

রাজ্য পুলিশের প্রাথমিক তদন্তের রেশ কাটতে না কাটতেই তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক ও বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র সব্যসাচী দত্তের বিরুদ্ধে সক্রিয় হয়ে উঠেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। শুক্রবার সকাল থেকেই কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী শহরতলির ১১টি ঠিকানায় একযোগে অভিযান চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা। পার্ক স্ট্রিট ও খিদিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় সব্যসাচী দত্তের ব্যক্তিগত বাসভবন এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের ঠিকানায় এই তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
এর আগে গত ৮ জুন তোলাবাজির অভিযোগে বিধাননগর উত্তর থানা সব্যসাচী দত্তকে গ্রেপ্তার করেছিল। সেই সময় তদন্তে রাজারহাটের একটি ফ্ল্যাট ও বিভিন্ন ব্যাঙ্ক লকার থেকে প্রায় ৩.৫ কেজি সোনা উদ্ধার করা হয়েছিল। পুলিশের দাবি, তোলাবাজির মাধ্যমে অর্জিত বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়ে সোনা কিনে সেগুলিকে বিনিয়োগ করা হয়েছিল। এছাড়া সব্যসাচী দত্ত ও তাঁর স্ত্রী ইন্দ্রানী দত্তের পাঁচটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার পাশাপাশি ফিক্সড ডিপোজিট ও নগদ মিলিয়ে প্রায় ৩ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই বিপুল সম্পদের উৎস এবং তা বৈধ আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে।
তদন্তের সূত্র ধরে উঠে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। গত জুনে সব্যসাচীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত নেত্রী টিনা ভৌমিক সাহার নদিয়ার করিমপুরের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ বিপুল পরিমাণ সোনা উদ্ধার করে। পাশাপাশি সল্টলেকের এক প্রবীণ বাসিন্দার কাছ থেকে ৪৬ লক্ষ টাকা তোলা আদায়ের অভিযোগটিও পুলিশি তদন্তের প্রধান বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজ্য পুলিশের সংগৃহীত নথি ও এফআইআর-এর ভিত্তিতেই কেন্দ্রীয় সংস্থা এখন বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
যদিও ইডি এখনো পর্যন্ত অর্থপাচার প্রতিরোধ আইনের অধীনে পৃথক কোনো এনফোর্সমেন্ট কেস ইনফরমেশন রিপোর্ট বা ইসিআইআর দায়ের করেনি, তবে বর্তমান তল্লাশি থেকে প্রাপ্ত নথিপত্র ও তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় রাজ্য রাজনীতির অন্দরে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজ্য পুলিশের পর কেন্দ্রীয় সংস্থার এই সক্রিয়তা সব্যসাচী দত্তের ওপর আইনি চাপকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে তুলেছে। তদন্তকারী সংস্থা এখন আর্থিক লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ চিত্র উদঘাটন এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস
