পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের সম্মানে ওয়ারফেজের সুরের জাদুতে মাতলো ঢাকা

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের হল অব ফেম যেন গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ফিরে গিয়েছিল আশির দশকের সেই সোনালী সময়ে। পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের সম্মানে আয়োজিত ‘প্লেলিস্ট ট্রিবিউট টু অরিজিনালস’ কনসার্টটি ছিল ভক্তদের জন্য এক আবেগঘন ও জাদুকরী অভিজ্ঞতা। মিলনায়তনের বাইরে মাইকেলের আইকনিক নাচের ভঙ্গিমার কাটআউট আর অ্যালবাম পোস্টারের ভিড়ে তরুণেরা মেতেছিলেন স্মৃতিরোমন্থনে, যা প্রমাণ করে কিংবদন্তি এই শিল্পীর আবেদন আজও অম্লান।
সন্ধ্যায় নির্ধারিত সময়ের কিছু পরে যখন সব আলো নিভে মঞ্চের বিশাল পর্দায় মাইকেলের অ্যানিমেটেড উপস্থাপনা শুরু হলো, তখন থেকেই উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে। মঞ্চে মাইকেলের সাজে শিল্পীর নিখুঁত নাচের মুদ্রা দর্শকদের মুগ্ধতার আবেশে ঘিরে ফেলে। এরপরই তুমুল করতালির মধ্য দিয়ে মঞ্চে আবির্ভূত হয় জনপ্রিয় ব্যান্ড ওয়ারফেজ। ভোকাল পলাশ নূরের কণ্ঠে ‘বিলি জিন’ গানটি শুরু হতেই কনসার্ট প্রাঙ্গণ যেন এক মুহূর্তেই মাইকেল জ্যাকসনের কনসার্টের আদলে রূপ নিল।
পলাশ নূরের অনবদ্য পরিবেশনায় ‘ইউ আর নট অ্যালোন’, ‘ব্ল্যাক অর হোয়াইট’, ‘বিট ইট’ কিংবা ‘থ্রিলার’-এর মতো কালজয়ী গানগুলো জীবন্ত হয়ে ওঠে। গায়কি ও পারফরম্যান্সে যেন মূলের আবহ ফুটিয়ে তুলেছিলেন তারা। বিশেষ অতিথি হিসেবে ওয়াহিদা হোসাইন যখন ‘ব্যাড গার্ল’ গানে সুরের মূর্ছনা ছড়িয়ে দিলেন, তখন দর্শকদের উন্মাদনা ছিল দেখার মতো। ব্যাক ভোকালে তোরসা, অন্তরা ও তাসফির পারফরম্যান্স আয়োজনটিতে যোগ করেছিল এক বাড়তি মাত্রা।
আয়োজনের কারিগরি দিক ও দৃশ্যপটও ছিল দারুণ সৃজনশীল। মঞ্চের পাশে পুরোনো দিনের টেলিভিশনের আদলে তৈরি বিশাল পর্দায় ভিডিও ফুটেজ প্রদর্শন এবং বিভিন্ন পর্যায়ে পারফরমারদের মাইকেল জ্যাকসনের লুক ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা দর্শকদের নিয়ে গিয়েছিল রেট্রো আমেজে। বান্দরবানের বেসিক গিটার লার্নিং স্কুলের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনা আয়োজনে যোগ করেছিল ভিন্নধর্মী ও নান্দনিক স্বাদ।
রাত নয়টায় ‘উই আর দ্য ওয়ার্ল্ড’ গানটি দিয়ে যখন পর্দা নামে, তখন পুরো মিলনায়তন এক সুরের মোহনায় মিলিত হয়। ব্যান্ড সদস্যদের সঙ্গে উপস্থিত দর্শকদের সম্মিলিত কণ্ঠ আর মঞ্চে পতাকাবাহী পারফরমারদের উপস্থিতি এক অন্যরকম আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি করে। ১৯৯২ সালের সেই ঐতিহাসিক দিনটিতে লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে মাইকেলের পারফরম্যান্সের স্মৃতি যেন ঢাকার মঞ্চে পুনরায় মূর্ত হয়ে উঠল। বিশ্বজুড়ে মাইকেল জ্যাকসনকে নিয়ে আজও যে অদম্য উন্মাদনা বিদ্যমান, ঢাকা এই কনসার্টের মাধ্যমে তা আবারও প্রমাণ করে দিল।
