মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের অস্থিরতা

মধ্যপ্রাচ্যে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ চড়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা গত এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্ব অর্থনীতির প্রধান জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এই মূল্যবৃদ্ধি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
মঙ্গলবার গ্রিনিচ মান সময় দুপুর ১২টা ৫১ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ৬৮ ডলার বা ২ শতাংশ বেড়ে ৮৪ দশমিক ৯৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ২ দশমিক ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৯ দশমিক ৭৯ ডলারে পৌঁছেছে। উল্লেখ্য, সোমবারের বাণিজ্যে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৯ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছিল, যা ২০২০ সালের মে মাসের পর এক দিনে সর্বোচ্চ রেকর্ড।
জ্বালানি বাজারের এই অস্থিরতার মূলে রয়েছে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া সামরিক উত্তেজনা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফাভাবে পারমাণবিক সমঝোতা চুক্তি বাতিলের পর ইরানের ওপর নতুন করে নৌ অবরোধ আরোপ করেছেন। এর ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই তেল পরিবহন রুটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়েছে এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলে তেলবাহী ট্যাংকারে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এদিকে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি এবং পাল্টা সামরিক অভিযানের খবরে লোহিত সাগর অঞ্চল ঘিরেও অনিশ্চয়তা ঘনীভূত হচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত নিরসনের কোনো লক্ষণ না থাকায় বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আগামী দিনগুলোতেও ঊর্ধ্বমুখী থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার সতর্ক করে বলেছেন যে, হরমুজ প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতি জ্বালানি সরবরাহের ভবিষ্যৎকে চরম অনিশ্চয়তায় ঠেলে দিয়েছে। একই সুরে গ্যাবেলি ফান্ডসের পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপক সাইমন ওয়ং মন্তব্য করেছেন, লোহিত সাগরে যদি এই হামলা অব্যাহত থাকে, তবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিতে পারে। বাজারের এই অস্থিতিশীলতা আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা।